কুতুব-উল-আকতাব, অধ্যাপক (অবঃ) আলহাজ্জ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রহ:)
জন্ম ও বংশ পরিচিতি:
বিশিষ্টি ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, গবেষক, অন্যতম মুসলিম বিজ্ঞানী ও আধ্যাত্মিক মহাসাধক, মোজাদ্দেদে মিল্লাত, পীরে মোকাম্মেল, গাউস-উল-আজম, কুতুব-উল-আকতাব, যুগশেষ্ঠ আল্লাহর ওলী, অধ্যাপক (অবঃ) আলহাজ্জ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রহ:) ১৯৩৭ সালে মানিকগনঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঘিওর থানার তেরশ্রীর পয়লা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা ও মাতা উভয়ই সম্ভ্রান্ত সৈয়দ বংশীয় ছিলেন। তাঁর পিতা আলহাজ্জ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা সৈয়দ মো: নছিমুজ্জামান ছিদ্দিকী ছাহিব (রহঃ), যিনি তেরশ্রী কলেজের একজন অত্যন্ত উচ্চজ্ঞানসম্পন্ন আদর্শ শিক্ষক ও হাক্কানী আলেম ছিলেন, তিনি উর্দূ কবি হিসাবে খ্যাত ছিলেন। মোর্শেদ কেবলার মাতার নাম সৈয়দা মালেকা ছিদ্দিকা (রহঃ)। তিনি ইসলামী জীবন ব্যবস্থার আদর্শ অনুসারী ও একজন পরহেজগার তাপসী ছিলেন। মোর্শেদ কেবলার দাদাজান ডা: সৈয়দ আব্দুল জব্বার ছিদ্দিকী ছাহিব (রহ:) তৎকালীন একজন খ্যাতনামা বিলেত ফেরত সার্জন ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। তিনি ফারসী ভাষার উচ্চ স্তরের কবি ছিলেন। তাঁর পূর্ব পুরুষগণ ইরাক থেকে এদেশে এসেছেন। ডা: সৈয়দ আব্দুল জব্বার ছিদ্দিকী ছাহিব (রহ:) কাশ্মীরের সম্ভ্রান্ত সাইয়েদ বংশের মেয়ে বিয়ে করেন। তিনি সরাসরি হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর বংশের কন্যা ছিলেন। অর্থাৎ আল্লাহর ওলীর দাদীর বংশের গোড়ার দিকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর সাথে সংযুক্ত। মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবের (রহ:) মাতা মালেকা ছিদ্দিকা (রহ:)। মাতার বংশের গোড়ার দিকে ইসলামের প্রথম খলিফা ছিদ্দিকে আকবার হযরত আবু বকর (রা:) এর সাথে সংযুক্ত। মাতুল মাওলানা আব্দুশ শাকুর ছিলেন অতিশয় আল্লাহভীরু। নিম্নে আল্লাহর ওলীর মাতার দিকের দুর্লভ বংশ তালিকা দেয়া হল-
১.মালেকা ছিদ্দিকা
২.মাওলানা আব্দুশ শাকুর
৩.মুজাফফর আনী
৪.এনাম বক্স
৫.মুহাম্মদ সাঈদ
৬.মুহাম্মদ হাফিজ
৭.মুহাম্মদ নাসির
৮.আব্দুন নবী
৯.আবু তুরাব
১০.মুহাম্মদ আবু হোসেন
১১.মুহাম্মদ আতিক
১২.মুহাম্মদ সায়াদ উদ্দীন
১৩.হামিদ উদ্দীন
১৪.আব্দুর রাজ্জাক
১৫.ইব্রাহীম
১৬.মুহাম্মদ জাহিদ
১৭.মুহাম্মদ হুসাইন
১৮.মুহাম্মদ আবুল কাসিম
১৯.মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন
২০.খাজা গরীবে নেওয়াজ সুলতানুল হিন্দ মইনুদ্দীন সাত্তারী(রা:)
২১.আব্দুল মজিদ মান্দার শরীফদার
২২.শরীফ জেন্দানিয়া জেন্দান
২৩.আবুল ইক্কল কুদ্দুস
২৪.ইউসুফ আহমেদ
২৫.আব্দুল আজিজ
২৬.আবুল কাসিম
২৭.আব্দুল্লাহ
২৮.জুনাইদ বাগদাদী
২৯.আবুল হুসাইন সাররী সাখতি
৩০.মাসুদ খিলদানি
৩১.রোকন উদ্দীন
৩২.সুলাইমান
৩৩.আইনুদ্দীন
৩৪.আবু আহমাদ
৩৫.কাসিম.
৩৬.আব্দুর রহমান
৩৭.হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা:)
উচ্চশিক্ষা ও কর্ম জীবন:
ছেলেবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত প্রখর স্মরণ-শক্তি সম্পন্ন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। যার ফলে শ্রদ্বেয় শিক্ষকমন্ডলী খুব যত্ন সহকারে তাঁকে পাঠদান করাতেন। তিনি ১৯৫১ সালে ফাযেল পরীক্ষায় র্বোডষ্ট্যান্ড করেছেন। উল্লেখ্য যে, তখন সমগ্র পাকিস্তানে মাত্র ৪৭ জন প্রথম বিভাগ পেয়েছিলেন। এই মহান আল্লাহর ওলী ইসলামী শরীয়তের বিষয়াদি অধ্যায়নের পাশাপাশি জেনারেল বিষয়াদিও অধ্যায়ন করতেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে সম্মানের সহিত বি.এ.(অর্নাস) ও এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন। পাশাপাশি এল.এল.বি ডিগ্রী লাভ করে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে ওকালতি পেশায় মনোযোগ দেন। মানবিক বিভাগের মেধাবী ছাত্র হলেও তিনি বিজ্ঞান ও আরবী বিভাগের জ্ঞানার্জনে বেশী আগ্রহী ছিলেন। যার ফলে আল্লাহপাকের মেহেরবানীতে জ্যোতিশাস্ত্র (Astronomy), দর্শণ (Philosophy), দেহবিজ্ঞান (Physiology), মনোবিজ্ঞান (Psychology), ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা (Anatomy), পদার্থবিদ্যা (Physics), রসায়ন (Chemistry) ইত্যাদি বিষয়ে উক্ত বিভাগের ছাত্রদের তুলনায় অধিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বলাবাহুল্য তিনি আরবী ভাষায় মহাপান্ডিত্য অর্জন করেন, যার ফলশ্রুতিতে দেশ বিদেশের বহু বরেণ্য আলেম ওলামাগণ নিজ নিজ অর্জিত এলেমকে আমলে পরিণত করার জন্য তালিম ও তালকিন নিতে তার নিকট ছুটে আসতেন। তিনি বরাবরই শিক্ষকতাকে পছন্দ করতেন। পেশা হিসেবে তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নিয়ে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ১৬ বছর অধ্যাপনা করেন। তাঁর পড়ানোর পদ্ধতিটি এতই অভিনব ও মানসম্মত ছিল যে, যখন তিনি ক্লাসে পড়াতেন তখন অন্যান্য বিভাগের ছাত্ররা তাদের ক্লাস বাদ দিয়ে তাঁর ক্লাস করতে ছুটে আসতো। উল্লেখ্য যে, কোন ছাত্র কখনই বাসায় এসে ক্লাসে পড়ানো বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে হয়নি। তবে তিনি ইংরেজী বিভাগের ছাত্রদেরকে প্রাইভেট পড়াতেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র একজামিনার ছিলেন। তিনি সম্মিলিত পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তানের ‘সাইকো এনালাইসিস এসোসিয়েশনের’ জেনারেল সেত্রেুটারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠজীবনেই মূলত তাঁর বহুমাত্রিক জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রগুলো তৈরি হচ্ছিল। এ পর্যায়ে এসে তাঁর পঠন-পাঠনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্হগারকে তিনি ব্যবহার করেছিলেন পাঠ্যবহির্ভূত নানাবিধ গ্রন্হের উৎস হিসেবে। এসময়ে তিনি ব্যবহার করেছিলেন দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব, সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়কে। বিশেষত নিউটন ও আইনস্টাইনের বিজ্ঞান-সাধনা তাঁকে এ সময় গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল। মহাকাশ বিজ্ঞান জীববিজ্ঞান হয়ে উঠে তাঁর বিদ্যার্জনের মূল আকর্ষণ। সেইখানে বিজ্ঞান ও দর্শনকে মিলিয়ে পড়ার ইচ্ছে থেকে একটি নির্দিষ্ট দার্শনিক বিশ্বাসে উপনীত হতে চেয়েছিলেন তিনি।
ভাষা সৈনিক:
১৯৫২ সালের ভাষা অন্দোলনে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ:) শহীদ সালাম, শহীদ বরকত, শহীদ রফিক ছাহিবের সাথে মাতৃভাষার জন্য ঐ দিনের কর্মসূচী অনুযায়ী মিছিল করেছিলেন এবং বজ্রকন্ঠে বলেছিলেন “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” তাঁর ভাষায় “যখন পাকিস্তানি মেলিটারিরা মিছিলে গুলি চালালো আমার ডান পাশদিয়ে গুলিটা গিয়ে শহীদ রফিকের গায়ে লাগল। সাথে সাথে মানুষ গুলো মাটিতে পরে মারা গেল। গুলিটা আর একটু বাম দিকে আসলেই আমার গায়ে লাগতো” আল্লাহর অলীকে দিয়ে আল্লাহপাক দ্বীনের কাজ করাবেন তাই আল্লাহপাক তাঁকে হিফাযত করেছিলেন।
রাজনীতিতে পদচারনা:
১৯৭০ সালে তাঁর মুর্শিদ কিবলা আল্লাহর কুতুব চরমোনাই দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর ছাহিব হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক ছাহিব (রাহ.) এর হুকুমে মুসলিম লীগ (কাইয়ুম) থেকে বাঘ মার্কায় মনোনয়ন নিয়ে হরিরামপুর শিবালয় মানিকগঞ্জ ১ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। এ সময় চালা গ্রামের আলমগীর হোসেন, রামকৃষ্জ্ঞপুর গ্রামের মুহাম্মাদ শাহজাহান খান ও মাওলানা ফখর উদ্দীন তাঁকে সহযোগীতা করেছিলেন। তিনি শুধু তাঁর পীরের হুকুম পালনের জন্য নির্বাচন করেছিলেন এবং তার পর তাঁর মুর্শিদ কিবলা তাঁকে বললেন “আযহারুল ইসলাম বারিষ্টার সাব রাজনৈতিকে (রাজনীতিতে) যাবা না” এই হুকুমের পর তিনি আর কখনও রাজনীতিতে যান নি।
অন্যতম মুসলিম বিজ্ঞানী হিসাবে আবির্ভাব:
পরমানু বিজ্ঞানী:
তিনি একজন বিশিষ্ট এমেচার পরমানু বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি Human cell নিয়ে সুদীর্ঘ দশ বছর গবেষণা করে ১৯৮৬ সালে পরমানু বিজ্ঞানের সম্পূর্ন নতুন একটি থিওরী আবিষ্কার করে প্রমান করেছেন কবরের আযাব সত্য। থিওরীটি হলো: Man will have never been vanishing, and one man divided into crore of crores atom-man after death, they are roaming about on the air” অর্থাৎ “মৃত্যুর পর মানুষ নি:শেষ হয়ে যায় না, একটি মানুষ কোটি কোটি পরমানু মানুষ রুপে বাতাসে ভেসে বেড়ায়”
বিজ্ঞানের গবেষক না হলে থিওরীটি বুঝা কঠিন। থিওরীটি তিনি ‘মহাস্বপ্ন’ (The Great Dream) নামক ৫৬ পৃষ্ঠার গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য তখন ও পৃথিবীতে ক্লোনিং থিওরী ও জেনেটিক থিওরী (Genetic Theory) আবিষ্কার করা হয়নি কিন্তু থিওরী আবিষ্কারের ১৫ বছর পূর্বেই তাঁর গ্রন্থে ক্লোনিং থিওরী ও জেনেটিক থিওরীর মূল ভিত্তি বিদ্যামান ছিল। ভবিষ্যতে এ থিওরীর ফলে বাতাস থেকে মৃত মানুষের জিন (Gene) সনাক্ত করা সম্ভব হবে।এ থিওরীটির বিস্তারিত মাসিক ভাটিনাও পত্রিকায় ২০০৬ ইং সালের ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল।
মহাকাশ বিজ্ঞানী:
তিনি একজন এমেচার মহাকাশ বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি ১৯৯১ ইং সালে space science এর মাধ্যমে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করে ‘মহা-ভাবনা’ (A philosophy of astronomy) নামক গ্রন্থ লিখেছেন। তিনি এ গ্রন্থে আল্লাহর অস্তিত্ব সর্ম্পকে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র মুসলিম বিজ্ঞানী যিনি আল্লাহর অস্তিত্ব বুঝা সর্ম্পকে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ (The World Challenge) করেছেন। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তবিদ ও গবেষক ডা: হারুন-অর-রশিদ ছাহিবের (লেকচারার, ডি.এম.সি) মতে, বর্তমানে বিশ্বে Modern astronomy বলতে যদি কিছু থাকে তার নাম হচ্ছে “মহা-ভাবনা”।
স্বর্নপদক প্রাপ্তি:
ক্ষণজন্মা এ মহাপুরুষ দুটি স্বর্নপদক লাভ করেন। প্রথমটি: তাঁর লিখিত ‘মহাভাবনা’ গ্রন্থের জন্য ১৯৯৯ সালের ১৩ই মার্চ সমগ্র বিশ্বের প্রায় ২০০ ডক্টরেট ও মুসলিম দার্শনিকগণের মাধ্যমে যুগের শেষ্ঠ রচনা হিসাবে ড. সিকান্দার আলী ইব্রাহীমি ছাহিব কর্তৃক স্বর্ণপদক লাভ করেন, ১৯৯৯ সালের মার্চ মাসে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি: যুগের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসাবে ‘মহাভাবনা’ লিখে স্বর্নপদক পাওয়ায় মানিকগঞ্জবাসী গর্বিতবোধ করে নাগরিক কমিটির পক্ষে সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) আবদুল মালেক ছাহিব কর্তৃক ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারীতে স্বর্নপদক প্রদান করেন। এ সময় দেবেন্দ্র কলেজের তাঁর সহকর্মীবৃন্দ, মানিকগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র রমজান আলীসহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মহাকবি:
তিনি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের মহাকবি ছিলেন। তিনি ১৯৮১ সালে “তারানায়ে জান্নাত” বা বেহেশতের সুর নামক গ্রন্থে ১০৭ টি আধ্যাত্মিক গজল রচনা করেন। এ গজল গুলোর পরতে পরতে ‘ইলম মা‘রিফাতের জ্ঞান বিদ্যামান। কবিতা গুলো তার নিজস্ব সুরে আজেও তাঁর খাদিম আব্দুল কাদির মোল্লা ছাহিবের সু-মধুর কন্ঠে সুরের মাধুরী ছড়ায়। উল্লেখ্য প্রখ্যাত মরমী শিল্পী আবদুল আলিমের অনুরোধে তিনি তাকে প্রায় ১০ টি ইসলামী গান লিখে এবং সুর করে দিয়েছিলেন যার প্রত্যকটিই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। তাঁর শর্ত ছিল গানগুলোতে তাঁর নাম প্রকাশ করা যাবে না তাই আজ ও গানগুলোর কথা ও গীতিকারে সংগ্রহ লিখা হয়। উচ্চ পর্যায়ের মহাকবি হওয়ায় তিনি প্রায়ই কাব্যিক ভাষায় সাহিত্য দিয়ে কথা বলতেন।
মহা সাহিত্যিক:
তিনি একজন মহাসাহিত্যিক ছিলেন। তার লিখিত ৮টি কিতাবই তাঁকে সাহিত্য সাগরের তলদেশের মানিক-রতন হিসেবে পরিচিত করেছে। অনেক সূধী জ্ঞানীজন তাঁর লেখনি পড়ে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞানের মত একটি নিরস বিষয়কে সাহিত্যাকারে ইতিপূর্বে কেহ এমন ভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
আধ্যাত্মিক মহাসাধনা জীবন:
অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের এই আধ্যাত্মিক মহাসাধক জন্মগত আল্লাহর ওলী ছিলেন। বড় বড় আল্লাহর ওলীগণ (কুতুব-উল-আকতাব) দুনিয়াতে আসার পূর্বে আল্লাহপাকের মহাসৃষ্টি জগতের সব কিছু ঐ আল্লাহর ওলীর জন্য সব সময় দোয়া করতে থাকেন এবং মহান আল্লাহপাক দয়াল নবীজী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মাধ্যমে পিতা-মাতা, ‘ওস্তাদ অথবা সে সময়ের কোন আধ্যাত্মিক সাধককে অবগত করান। তিনি যখন মাতৃগর্ভে আসলেন তখন তাঁর পরম শ্রদ্ধেয়া মা স্বপ্নে দেখলেন “স্বয়ং দয়াল নবীজী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হাসি মুখে এসে একটি সুন্দর লাল গোলাপ তার হাতে উপহার দিলেন এবং সাথে সাথে বেশ কিছু লাল আলো চর্তুদিকে ছড়াচ্ছিল এবং চারদিক উজ্জ্বল হয়েছিল” (আলহামদুলিল্লাহ)। হুজুরপাক (সাঃ) বলেছেন “আমাকে যদি কেহ স্বপ্নে অথবা বাস্তবে দেখে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম” শুধু স্বপ্নে দেখলেই জাহান্নামের আগুন হারাম আর হাসি মুখে ফুল দিলে কি হতে পারে? সাধনারত মোকাম্মেল পীরের জ্ঞানী ভক্তবৃন্দ তা সহজেই অনুধাবন করতে পারেন। যে বিছানায় শিশু মোর্শেদ কেবলা ঘুমাতেন সেই বিছানার পাশের জানালা দিয়ে রোদ এসে বিছানায় পরতো, কিন্তু একটি সাপ এসে জানালায় এমন ভাবে পেচিয়ে ফনা ধরে ছিল, যাতে আল্লাহর অলীর গায়ে রোদ না লাগে (আলহামদুলিল্লাহ)। এ ঘটনা দেখে তাঁর পিতা বললেন, “ছেলে হিসেবে খোদা আমাকে একটি রত্ন পাঠিয়েছেন, আমি দেখতে পাচ্ছি অর্থাৎ সুসংবাদ পেয়েছি যে, আমার এ ছেলের যমানায় ইসলামী দর্শনে ওর চেয়ে জ্ঞানী আর কেউ হবে না (আলহামদুলিল্লাহ)”
তিনি অতি সুন্দর ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। তাঁর সুশ্রী ও চিত্তাকর্ষক চেহারা মুবারক এবং অপরূপ নয়নেরচাহনী সকলের মন কেড়ে নিত। তাঁর চেহারা মুবারকে এক সময় এক এক রংয়ের আভা ফুটে উঠতো, নামাযের সময় একরকম, মাহফিলে যাওয়ার সময় একরকম, মাহফিল চলাকালীন একরকম, সবক বাতানের সময় একরকম মুনাজাতের সময় একরকম। কখনও লাল আভা ফুটে উঠত আবার কখনও স্বর্নের রংয়ের মত সোনালী রং ফুটে উঠে বেলায়েতী সূরাত প্রকাশ হতো। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থায় কেন দেখা যেত সে সম্পর্কে তাঁর মুর্শিদ কিবলাকে নিয়ে লেখাএকটি গজলের একটি লাইন থেকে ধারনা পাওয়া যায় তা হল “মুর্শিদের রূপালী পর্দায় নিরূপ মানুষ খেলা করে তারে ধরি কেমন কর“ ঐ মধুমাখা চাঁদমুখে উনি যখন হাসতেন তখন মনে হত আশে পাশের গাছপালা সহ সমস্ত কিছুই একসাথে হাসতেছে। তাঁর লক্ষ লক্ষ মুরিদ রয়েছে যারা শুধু তাঁকে একনজর দেখেই মুরিদ হয়েছে। তাঁর জীবনের সুদীর্ঘ বাইশ বছর কেটেছে শুধু আল্লাহকে পাওয়ার জন্য সাধনা করে। খুব ছোট বয়সেই তিনি নির্জনে একা বসে সৃষ্টিজগতের অপূর্ব এই মহাসৃষ্টির মহাস্রষ্টাকে খুজতেন, আর অঝোরে চোখের পানি ঝরাতেন ও বলতেন কে আমাকে বানিয়েছেন আমাকে দেখা দেন। যখন তিনি সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র, তখন তিনি ভাবলেন আল্লাহপাককে পেতে হলে আরবী মাধ্যমে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, তাই তিনি ইংরেজী মাধ্যমের পাশাপাশি মাদ্রাসা বিভাগের পড়া শেষ করেন। হুযুরের বয়স যখন খুব অল্প তখন ফুরফুরা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর ছাহিব হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবূ বকর ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) এঁর একটি মাহফিলে গিয়ে শিশু অবস্থায়ই আল্লাহর অলীর কথা বুঝতে পেরে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য তাঁর নিকট বায়‘আত গ্রহন করেন। কিন্তু অল্প বয়সের কারনে পরবর্তীতে পীর ছাহিব হুযুরের সন্ধান পাননি। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য প্রচন্ড মনোবল নিয়ে তিনি বড় হতে লাগলেন। যখন তিনি চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে অধ্যায়ন করতেন তখন তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ‘ইলম নাহু ও ‘ইলম ছরফ ভালভাবে তা‘লিম নেন। তিনি ১৯৫১ সালে কুমিল্লার হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল গণি সাহেব (রহঃ) (আসামের বনবাসী দরবেশ, উল্লেখ্য তিনি এক পায়ের বৃদ্ধাংগুলির উপর ভর করে কয়েক বছর যিকিরে মশগুল ছিলেন) এঁর নিকট বয়াত (মুরিদ) হন এবং শুরু থেকেই তিনি তাঁর পীর ছাহিব কিবলার সকল নসিহত আদব এবং পূর্ণভক্ত হৃদয় নিয়ে পালন করতেন। সেখানে তিনি সুদীর্ঘ ৯ বছর আসাম ও চট্টগ্রামের পাহাড়ে পাহাড়ে সাধনা’রত ছিলেন। একবার তাঁর পীর ছাহিব হুয়ুরের পায়ের জুতা ছিড়ে গিয়েছিল। ঐ ছিড়া জুতা পরেই তিনি চলাফেরা করতেন কিন্তু যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর হুযুর কিবলা ছিড়া জুতা পায়ে দিয়ে চলাফেরা করছেন তখন তিনি অপেক্ষা করতে থাকলেন কখন হুযুর একটু আড়ালে যাবেনে এবং তিনি জুতাটা শিলাই করে দিবেন। হুযুরের জুতা খাটের তলায় রেখে তিনি একটু বাহিরে গেলেন এ সুযোগে তিনি জুতাজোড়া নিয়ে। ভালো করে পরিষ্কার করলেন, তার পর শিলাই করার জন্য সুঁই জাতীয় কিছু না পেয়ে ছাতার দাশা দিয়ে সুঁয়ের মত বানিয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে জুতাজোড়া শিলাই করলেন, শিলাই করতে গিয়ে তাঁর হাতের তালু ছিদ্র হয়ে রক্ত বের হয়েছিল। তিনি ব্যবহারের জন্য সফরের সময় তাঁর ব্যাগে জুতার কালি, ব্রাশ, চিরুনী ইত্যাদি রাখতেন। তারপর সেই জুতা ভালভাবে কালি করে একেবারে চকচকে নদুন করে খাটের নিচে রেখে হুযুরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর হুযুর বাহির থেকে এসে মাহফিলে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে জুতাজোড়া বের করে দিতেই হুযুর বললেন “নতুন জুতা কেন? আমারতো জুতা আছে” তখন তিনি বললেন হুযুর এটি আপনার পুরাতন জুতা আমি শিলাই করে কালি করে দিয়েছি আপনি এটি পায়ে দিন। তখন হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল গণি সাহেব (রহঃ) যার সিনায় কাদরীয়া তরীক্বার পূর্ণ ফায়িয বিদ্যমান ছিল, তিনি হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহেবকে জড়িয়ে ধরে সিনার সাথে সিনা ঠেকিয়ে বিশেষ ভাবে দু‘আ করলেন। তারপরে চোখের জলে বুক বাসিয়ে বলেছিলেন আপনি এত বড় উচ্চ শিক্ষিত মানুষ হয়ে আমার পায়ের ছিড়া জুতা নিজ হাতে শিলাই করে দিলেন, যান আজ থেকে আপনার সকল সাধনা পূর্ণ হলো। এ সময় তিনি তাঁকে ইসমে আ‘যম শিক্ষা দিয়েছিলেন। এটা আল্লাহপাকের একটি বিশেষ নাম। তারপর পর হুজুর কর্তৃক কাদরীয়া তরীকার খেলাফত (সনদ) প্রাপ্ত হন। এবং তার নির্দেশেই চরমোনাইর মরহুম পীর সাহেব হুজুর আলহাজ্জ্ব হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক ছাহিব (রহঃ) শ্রদ্ধেয় দাদা হুজুর কেবলার নিকট যান (যিনি পানির উপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পরতেন), মৌলবী সাহেব অত্যন্ত গরম, বর্তমান বিশ্বে একমাত্র তিনিই আপনাকে ‘ইলমে মা‘রিফাতের পরবর্তী সবক দিতে পারবেন” এ কথা শুনে ১৯৬০ সালে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.), ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর আল্লাহর কুতুব হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক ছাহিব (রহঃ) এঁর নিকট গিয়েছিলেন। তখন আল্লাহর কুতুব তাঁকে জিজ্ঞাস করলেন “বারিস্টার সাব আইসেন, হ্যা ওয়া কেমুন করিয়া আইসেন” তিনি বললেন “হুযুর আপনার কিতাবে বরিশাল নদীর পূবপার (পূর্বপার) ৪ মাইল দেখছি, দেইখা (দেখে) ঐ কিতাব ধইরা (অনুযায়ী) তারপর আমি আইছি (এসেছি)” হুযুর বললেন “আহহা আপনে চিনেন না শোনেন না এত কষ্ট করিয়া আইসেন, ঐ যে হোটল ঐ হোটলে খান” তখন আল্লাহর কুতুব এর নিকট বায়‘আত গ্রহন করেন ও তাঁর পবিত্র পা ছুয়ে সালাম করেন। তারপর হোটেলে খাওয়া দাওয়া করলেন। আল্লাহর কুতুব হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক ছাহিব (রহঃ) যেই রাস্তা দিয়ে আসতেন সেই রাস্তাটা চাপা ছিল। তাঁর ভাষায় “এক দিকে পুকুর, অন্য দিকে কুতুব খানা। (অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে তিনি বলেছিলেন) এই চাপা রাস্তার উপর একটি মাথায় দিয়ে রাতের বেলা শুয়ে রইলাম, ভাবলাম যে যদি উনির চরনটা আমার শরীরে লাগে, উনিতো ফযরের ওয়াক্তে এখান দিয়েই যাবেন, যদি তাঁর পবিত্র চরনের একটা পাড়া খাইতাম। পথের মাঝে পরে থাকিসম বুকে চরন ঠেকতে পার” তাঁর এই ঘটনা থেকেই বুঝা যায় তিনি কত উচ্চ পর্যায়ের আদবওয়ালা অলী ছিলেন। উল্লেখ্য, তখন তিনি হাই কোর্টে ওকালতি করতেন। ইতিহাসে এমন আদবওয়ালা মুর্শিদ প্রেমিক মুরিদ বিরল। তারপর ‘ইলমে মা‘রিফাতের জগতে গভীর ভাবে বিচরন করেন এবং অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের আদব জ্ঞান সম্পন্ন এ মহান আল্লাহর ওলী তাঁর সঠিক সাধনার মাধ্যমে মাত্র ৩ বছরের মাথায় ১৯৬৩ চিশতিয়া সাবেরিয়া তরিকার খেলাফত প্রাপ্ত হন এবং ১৩ বছর শ্রদ্ধেয় দাদাহুজুর, হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক ছাহিব (রহঃ) কেবলার নিকট সাধনা’রত ছিলেন। বরিশালের হুজুর কেবলা তাকে আদর করে “আযহারুল ইসলাম ব্যারিস্টারসাব” নাম ধরে ডাকতেন এবং মাহফিলে শ্রদ্ধেয় দাদাহুজুর কেবলা মোর্শেদ কেবলাকে সকল মানুষের সামনে বলতেন “আযহারুল ইসলাম ব্যারিস্টারসাব খাড়াও (দাড়াও) মানুষরে দেহাও (মানুষকে দেখাও), এই আযহার আমার কলিজার টুকরা”
মোর্শেদ কেবলা চিশতিয়া ও কাদরীয়া উভয় শ্রেষ্ঠ তরীকা থেকেই খেলাফত (সনদ) প্রাপ্ত ছিলেন। একবার তিনি চরমনাই দরবার শরফে বার্ষীক মাহফিলে ‘ইলমে মা‘রিফাতের উচ্চাঙ্গের করতেছিলেন তখন তাঁর মুর্শিদ কিবলাবাড়ীর ভিতরে ছিলেন, তখন আল্লাহর কুতুব হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক ছাহিব (রহঃ) তাঁর বয়ানে এতই সন্তুষ্ট হয়েছিলেন যে, তিনি বাড়ীর ভিতর থেকে বের হয়ে এসে ষ্টেজে উঠে তাকে বুকে টেনে নিয়ে সিনার সাথে সিনা ঠেকিয়ে বিশেষভাবে দু‘আ করেছিলেন। এ সময় তিনি হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) কে আজমাতুল উজমা (যা ‘ইসমে আ‘যমের অনেক উপরে) শিখিয়ে দেন। তিনি যিকরের জন্য নির্জন স্থানে ৩*৪ বর্গহাত জায়গা কাপড় দিয়ে ঘিরে সেখানে যিকর করতেন যাতে বাহিরের কোন লোক তাঁকে না দেখে অনেক সময় তিনি রাতে যিকর করতে করতে খোলা মাঠে চলে যেতেন আবার ভোর হওয়ার পূর্বেই ফিরে আসতেন। আবার মসজিদে যিকর করতেন, কখনও কখনও যিকরের হালাতে তিনি লাফাতে থাকতেন এ সময় তাঁর এমন হালাতের সৃস্টি হত যেন তাঁর মাথা মুবারক প্রায় মসজিদের ছাদে ঠেকত এবং তাঁর দেহের ছত্রিশ কোটি লোমের গোড়া দিয়ে যিকর বের হত। আবার তিনি কবর খনন করে সেখানে নেমে আল্লাহর যিকর করতেন, কবরের উপরের অংশ মাটি দিয়ে ঢেকে রাখতেন। এ সময় তাঁর আদরের সন্তান আল্লাহর বান্দা ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকি ছাহিব তাঁর জন্য খাবার নিয়ে যেতেন।
হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী সাহেব (রহ:) এর তাসাউফ চর্চার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্বীকৃতি:
হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী ছাহিব (রাহ.) এঁর দু‘আ:
হযরত মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল হক ফরিদপুরী সাহেব (রহঃ) (শায়েখ- জামে ‘আয়ে ফোরকানিয়া মাদ্রাসা,লালবাগ, ঢাকা) আলহাজ্জ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আযহারুল ঈসলাম সিদ্দিকী সাহেব (রহঃ)-কে বলেছিলেন,“আমি আল্লাহপাকের নিকট দোয়া করেছি, মাবুদ একজন ইংরেজী বাংলা শিক্ষিত জ্ঞানী মানুষকে আপনি এলমেশরীয়ত ও এলমে ম‘রেফতের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান দান করেন। আমার এ দোয়া আল্লাহ পাকের নিকট যে কবুল হয়েছে, তার প্রমাণ হচ্ছেন স্বয়ং আপনি। আল্লাহপাক আপনাকে এলমে শরীয়ত ও এলমে মারেফতের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান দান করেছেন”। (আলহামদুলিল্লাহ)।
হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুযুরের (রাহ.) দু‘আ:
হাকীমুল উম্মত হযরত মওলানা আশরাফ আলী থানবী (রাহ.) এঁর সর্বশেষ খলিফা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুযুরের (রাহ.) হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) এঁর তারানায়ে জান্নাত কিতাবখানা পড়ে বললেন ‘ইলমে মা‘রিফাতের এত উচ্চাঙ্গের তথ্য গজল আকারে এত প্রানবন্ত ভাষায় কিতাব লিখতে পারে এমন লোক বাংলার জমিনে আছে তা আমার জানা ছিল না। আমি উনাকে দেখতে যাব। তারপর তিনি মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে এসে তাঁকে প্রাণভরে দু‘আ করে বললেন আমি আপনার সাথে দুনিয়াতে ও আছি আখিরাতে ও আছি।
গরীবে নিওয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী আযমিরী ছাহিব (রাহ.) কর্তৃক জীবনী সর্ম্পকে নির্দেশ:
২০০৩ সালে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবের (রাহ.) জীবনী লিখতে তাঁর প্রধান খলিফা ও বড় ছাহিবজাদা হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব, তাঁর একজন মুরিদ রিয়াজুলকে হুকুম দিয়ে দু‘আ করেছিলেন। জীবনী লিখার জন্য সে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে লাগলো। এ সময়ে তন্দ্রাবস্থায় গরীবে নিওয়াজ হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রাহ.) রিয়াজুলকে একটা কাগজ হাতে নিয়ে বললেন, এটা আমার জীবনী তারপর তাঁর জীবনীটা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবের (রাহ.) জীবনীর উপরে রেখে বললেন আমার নামের জায়গায় শুধু উনির নামটা বসিয়ে দাও। তারপর সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেল হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রাহ.) জীবনের অধিকাংশ ঘটনার সাথে হযরত মাওলানা মুহুম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) ঘটনার হুবহু মিল রয়েছে। শুধু স্থানের তফাৎ। এ প্রসঙ্গে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) দুটি আধ্যাত্মিক বাণীর হুবহু মিল রয়েছে তা হলো যুগে যুগে একই মুর্শিদ চিনে কয়জনা, মুর্শিদের মরন হয় না কোন কালে। দেখলে তারে দেখার মত সাধনা কি লাগত এত, ভাবলে তাঁরে ভাবার মত ভাবনা রইতনা আর।
হুযুরের দৈনন্দিন জীবন:
সকালে উঠা: তিনি সব সময়ই ভোরে বিছানা থেকে উঠতেন। উঠেই বালিশের নিচ থেকে টুপি বের করে মাথায় দিতেন। জাগ্রত অবস্থায় তিনি সব সময়ই মাথায় টুপি রাখতেন। তারপর সঠিক সময়ে ফযরের নামায আদায় করতেন। সব সময়েই জামাতের সাথে নামায আদায় করতেন। নামাযের পর সেখানেই বসে থাকতেন। তার পর সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহর যিকর করতেন, সূর্য উঠার পর ছয় রাকাআত ইশরাক নামায আদায় করতেন ৯ টার দিকে চাশত নামায আদায় করে সামান্য হাটতেন।
দাঁত পরিষ্কার: তিনি প্রত্যেক নামাযের পূর্বেই মিসওয়াক করতেন। তিনি তাঁর সকল মুরিদকে নামাযের পূর্বে মিসওয়াক করার জোড় নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দুপুর বারটার দিকে প্রতিদিন পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতেন। তিনি সফট ব্রাশ ব্যবহার করতেন।
ইস্তিন্জা: বড় ইস্তিন্জার সময় ৫টি, ৭টি, এমনকি ২১টি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। বড় ইস্তিন্জা শেষে তিনি ইস্তিন্জার স্থান তিনবার সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতেন। এরপর দু হাত উত্তমরুপে সাবান ব্যবহার করে পরিষ্কার করতেন।
অযু: অযুর মধ্যে ও অযুর শেষে তিনি দরুদ শরীফ পরতেন। অযু করে তিনি কখনও কপাল মুছতেন না। ফযরের অযুতে তিনি চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতেন। অযুর জন্য তিনি গর্তকরে তার উপর লোহার জালিকা দিয়ে সেই জারিকার উপর কেটলি রেখে ছোট কাঠের চকিতে বসে অযু করতেন। জালিকা দেয়ার কারন যাতে মেঝেতে পানি পরে ছিটে এসে গায়ে না লাগে। তিনি অধিক পরহিযগারীতা অবলম্বন করতেন।
নামায: তিনি সুন্নত নামাযের পর ফরয নামায আদায়ের সময় সবুজ পাগড়ী বাধতেন এবং ফরযের পরবর্তী সুন্নত, ওয়াজিব, নফল, ইত্যাদি নামাযের সময় পাগড়ী পরা অবস্থায় থাকতেন। তার পর মুনাজাতের পর ভাজে ভাজে সুন্নতী কায়দায় পাগড়ী খুলতেন।
খাবার: খাওয়ার পূর্বে তিনি হাত ধুয়ে আঙ্গুলের মাথায় সামান্য একটু নুন নিয়ে জিব্বায় লাগিয়ে বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করতেন। সব সময়ই লাল দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খেতেন। সামান্য খাবার পরে গেলে তা উঠিয়ে খেতেন। তিনি উত্তমরুপে আঙ্গুল চেটে খেতেন যা নবীজীর (সা:) এর পবিত্র সুন্নত।
পরিশ্রম করা: তিনি নিজ হাতে গাছ লাগাতেন, পানি দিতেন এবং নিরিয়ে দিতেন। বরশী দিয়ে মাছ ধরা তার একটি শখ ছিল তিনি বাড়ীর ভিতরের পুকুর থেকে তাঁর আদরের সন্তান ও নাতীকে নিয়ে মাছ শিকার করতেন। তিনি লাঠি খেলা খুর পছন্দ করতেন। তেরশ্রীতে গেলে তিনি সেখানে লাঠি খেলোয়াড়দের সাথে লাঠি খেলতেন। মাঝে মাঝে তিনি তাঁর ৭ বছরের আদরের নাতী মুহাম্মাদ মিক্বদাদ ছিদ্দীকীর সাথে লাঠি খেলে আনন্দ পেতেন।
জ্ঞানাণ্বেষনে থাকা: তিনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জ্ঞান সনচয় করেছেন। প্রতিদিন খবরের কাগজ পরতেন শেষ বয়সে তাঁর নাতী নাতনীরা পড়তেন তিনি শুনতেন। প্রতিদিন রেডিওতে রাত সাড়ে আটটার খবর শুনতেন।
ঘুমানো: তিনি ঘুমানোর পূর্বে অযু করতেন। তারপর খালি পায়ে কিছু সময় হাটতেন। তাঁর বালিশের একপাশে একটি টর্চ, তজবীহ, টুপি ও মাথার রুমাল রাখতেন। মাথার রুমাল দিয়ে মাথা ও কান মুবারক ঢেকে রাখতেন যাতে ফ্যানের বাতাস ক্ষতি করতে না পারে। ঘুমের সময় শরীরে কাথা দিয়ে রাখতেন। এছাড়া তিনি সুন্নতস্বরুপ ঘরের এক কোনে একটি লাঠি রাখতেন। মশারীর চার মাথা সমান করে টানানো ছাড়া কখন ও ঘুমাতেন না। প্রথমে আসমানের দিকে কিছু সময় মুখ করে শুয়ে তারপর বামকাতে সামান্য সময় থেকে অবশেষে ডান কাতে কিবলামুখি হয়ে যিকর করতে করতে ঘুমাতেন। কিন্তু তিনি গড়ে তিন ঘন্টার বেশী ঘুমাতেন না। সব সময় ইল্লাল্লাহ যিকর করতে করতে ঘুম থেকে উঠতেন। রাতের অধিকাংশ সময় তিনি আল্লাহর যিকর করতেন এবং বসে বসে কাদঁতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন আমার কিছু ভক্ত রয়েছে যারা আরাম করে নিদ্রা যাওয়ার পরিবর্তে গভীর রাতে আমার জন্য বসে বসে কাঁদে আমি ও সেই পাগলদের জন্য সজাগ থাকি আর বসে বসে কাঁদি। তিনি তার মুরিদের অত্যন্ত ভালবাসতেন।
প্রখ্যাত সূফী হিসেবে আবির্ভাব ও তা‘লিমে যিকর (মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ) প্রতিষ্ঠা:
১৯৬৫ সালে বরিশালের হুজুর কেবলা আলহাজ্জ্ব হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক ছাহিব (রহঃ) এর হুকুম ও দোয়ার মাধ্যমে তা‘লিমে যিকর মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন ও সমগ্র বিশ্বে ইসলামের ‘ইলমে শরীয়ত ও ‘ইলমে মা’রেফতের আলো ছড়িয়ে দেয়ার অক্লান্ত পরিশ্রম শুরু করেন। মাইলের পর মাইল, কখনো পায়ে হেটে, কখনো সাইকেল চালিয়ে হুজুর কেবলা মাহফিল করতে যেতেন এবং মানুষকে ইসলামের পথে আনতে লাগলেন। উল্লেখ্য যে, বরিশালের হুজুর কেবলা জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি কখনোই নিজের নামে বয়াত (মুরিদ) করেননি, এটা তিনি আদবের খেলাফ মনে করতেন। সমাজে হাক্কানী আলেম তৈরীর লক্ষ্যে এই মহান আল্লাহর ওলী ১৯৭৭ সালে “জামিআ আরবিয়া সিদ্দিকীয়া দারুল উলুম মাদ্রসা” প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে আদব, এলমে শরিয়ত ও এলমে মা’রেফত ইত্যাদি বিষয়ের পাশাপাশি আরবী, উর্দু, বিজ্ঞান ও ইংরেজী বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিম দেয়া হয়। আধ্যাত্মিক জগতের এই দিকপাল তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ মানুষকে সঠিক ইসলামের পথে পরিচালিত করে মহান আল্লাহ পাকের সাথে ভালবাসা স্থাপন করেছেন। মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ হচ্ছে হুজুরপাক (সাঃ) কে ভালবাসার এবং তাঁর সুন্নাতকে সঠিকভাবে পালন করার দরবার শরীফ। তিনি প্রতি বছর অগ্রাহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে দুইবার বাৎসরিক ইসলামী মহা সম্মেলনের আয়োজন করেন। যেখানে মাত্র তিন দিনে মানুষকে ‘ইলমে মা’রেফত ও ‘ইলমে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ তা‘লিম ও Practical Training এর মাধ্যমে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা তথা হুযুরপাক (সাঃ) এঁর পূর্ণঙ্গ সুন্নাত পালনের জন্য পরিপূর্ণ শিক্ষা দান করা হয়। যেখানে দেশ বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ও ভক্তবৃন্দ ‘ইলমে শরিয়ত ও ‘ইলমে মা‘রেফতের তা‘লিম নিতে এবং নবীপ্রেমে মশগুল হয়ে সুন্নাতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পাগলের মত ছুটে আসেন। এখনে পর্দা, আদব, আখলাক, এলেম থেকে শুরু করে তাসবিহ, পাগড়ী, মেসওয়াক পর্যন্ত সকল সুন্নতের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা নেয়া হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আগত বিভিন্ন আলেম ওলামাগণ মন্তব্য করেছেন- “মনিকগনঞ্জ দরবার শরীফ সুন্নাত ও আদবের দরবার” পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞানের উৎস হচ্ছে কোরআন শরীফ ও হাদিস শরীফ। তার বাস্তব প্রমাণ মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে গেলে স্বচক্ষে অবলোকন করা যায়।
মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে শিক্ষিত, জ্ঞানী ও আলেমের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশী। বর্তমানে মোর্শেদ কেবলার বড় সাহেবজাদা ও প্রধান খলিফা পীরে কামেল মুকাম্মিল, অন্যতম চিকিৎসা বিঞ্জানী ও গবেষক, শাইখুল হাদীস
“হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী” বি.এ.(অনার্স); এম.এ.(আরবী সাহিত্য); এম.এম.(কামিল ফীল হাদীস); এম. ফিল.;এলএল.বি; পিএইচ.ডি.(ফিকহ হানাফী); (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) পিতার নির্দেশ ও দোয়ার মাধ্যমে বাৎসরিক ইসলামী মহা-সম্মেলন ও তা‘লিমে যিকর মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়ে সমগ্র বিশ্বে ইসলাম প্রচারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। বর্তমান পীর ছাহিব হুযুর সম্পর্কে তিনি ২০০০ সালের ফাল্গুন মাসে (হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী) সম্পর্কে বাৎসরিক ইসলামী মহা-সম্মেলনে মোর্শেদ (আলহাজ্জ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেব (রহ:) কেবলা বলেছিলেন “তোমাদের জন্য আমি দরদভরা একজন দরদী মনের মানুষকে রেখে গেলাম, আমি আমার ‘আমলে যতটুকু ইসলামের প্রচার এবং প্রসার করেছি আমার আদরের ছেলে, আল্লাহর বান্দা ‘তার আমলে এর চাইতে “দশ গুন” বেশী প্রচার এবং প্রসার করবে, ইনশাআল্লাহ। বাপকা বেটা সিপাই কা ঘোড়া– পিতার ছেলে শক্তিশালী হলেই পিতা শক্তিশালী হয়। আমার এ ছেলে আল্লাহ বান্দা দুনিয়াতে আসার পূর্বে আমি চোখের পানি ফেলে আল্লাহপাকের নিকট দোয়া করেছিলাম মা‘বূদ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দেন আমি এই সন্তানকে ইসলামের কাজের জন্য নিয়োজিত করবো, আল্লাহপাক আমার এ দোয়া কবুল করেছেন (আলহামদুলিল্লাহ)“। যেই মহান আল্লাহর ওলী চোখের পলকে একজন জাহান্নামী মানুষকে আল্লাহর ওলী বানাতে পারতেন সেই মোর্শেদ কেবলা চোখের পানি ঝরিয়ে যাঁকে দুনিয়াতে এনেছেন সেই মানুষটি কেমন হতে পারে জ্ঞানী মানুষ খুব সহজেই তা বুঝতে পারেন। আমরা সবাই যেন এই মহা নেয়ামতের সঠিক কদর করতে পারি। উল্লেখ্য যে, তা‘লিমে যিকর মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের সকল মুরিদ ও সালিকগণ ধর্মীয় গোড়ামী, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস থেকে সম্পূর্ণরুপে নিরাপদ, কারণ মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের পীর সাহেব হুজুর, একজন শিক্ষাবিদ হিসাবে শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বে অন্যতম। পাক ভারত উপমহাদেশে এত উচ্চ শিক্ষিত পীর নেই বললেই চলে। একজন খাটি আল্লাহর ওলী, জাইয়েদ ‘আলেম ও একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের ছুহবতে এসে মহান আল্লাহপাকের সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্যে সকলে আমন্ত্রিত।
খিলাফত (সনদ) প্রদান:
১. ১৯৯৯ সালের ২০শে ফাল্গুন তাঁর সুযোগ্য বড় ছাহিবজাদা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবকে, চিশতিয়া ছাবিরিয়া ও কাদরীয়া উভয় তরীকার পূর্ণ খিলাফত দিয়েছেন।
২. ২০০০ সালে মুফতী আযম হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল হাকীম ছাহিবকে কাদরীয়া তরীক্বা থেকে সনদ দিয়েছেন। তিনি বর্তমানেও মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে আদবের সহিত নিয়মিত তালকিন নেন।
৩. ২০০০ সালে হযরত মাওলানা মো: আব্দুস সাত্তার আশরাফী ছাহিবকে চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীকার নফিএসবাত (২য় সবক) পর্যন্ত সবক বাতাবেন এবং হাবসে দম সবকের জন্য মুরিদকে মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে নিয়ে আসবেন এই সনদ দিয়েছেন।
৪. ২০০০ সালে হযরত মাওলানা মো: মাসুম বিল্লাহ জিহাদী ছাহিকে চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীক্বার নফিএসবাত (২য় সবক) পর্যন্ত সবক বাতাবেন এবং হাবসে দম সবকের জন্য মুরিদকে মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে নিয়ে আসবেন এই সনদ দেন। তিনি ইনতিকাল করেছেন।
কয়েকটি কারামত:
আল্লাহপাকের বড় বড় ওলীদের (কুতুব-উল-আকতাব) জীবনে মহান আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ঘটে থাকে। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি পায়। তেমনি কিছু সংখ্যক অলৌকিক ঘটনা বা কারামত এখানে প্রকাশ করা হল।
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বিচারপতি মোঃ আব্দুস সালাম সাহেবকে হাফেজ্জী হুজুরের খলিফা অধ্যাপক জনাব সামসুল আলম সাহেব, হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) এর লিখা “কাসদুল সাবিল” নামক এলমে মা’রেফতের একটি কিতাব পড়তে দিয়েছিলেন। বিচারপতি সাহেবের ভাষায়- “কাসদুল সাবিল” কিতাবখানা পড়া অবস্থায় আমি একদিন মানিকগঞ্জের হুজুর কেবলার সহিত জামাতে আসর নামাজ পড়ার জন্য মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে যাই। আসরের নামাজ পড়ার পর আমি মোর্শেদ কেবলাকে সালাম প্রদান করি- ‘আসসালামু আলাইকুম’ সালামের জবাব দেওয়ার পর তিনি আমাকে বললেন, “আসর নামাজের পূর্বে, আমার এখানে আসার সময় আপনি “কাসদুল সাবিল” কিতাবখানা পড়ে এসেছেন।” আমি বললাম, “জ্বী হুজুর” এবং তাঁর ‘এলমে কাশফ’ সম্পর্কে অবগত হয়ে বিস্মিত হলাম।
• স্থান বায়রা: মোর্শেদ কেবলা মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বয়রা গ্রামে আব্দুল হালিম নামে একজন মুরিদের বাড়ীতে গিয়েছিলেন। তিনি তখন নীচের দিকে তাকিয়ে বললেন “মাটির নীচ দিয়ে তো ইলিশ মাছের ঝাঁক দেখা যায়” ঐ মুরিদ তখন কিছু বুঝতে পারলো না, বুঝার কথাও না। আল্লাহর ওলীদের কথা বুঝাটাও একটা কারামত। বয়রা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাইল দূরে পদ্মা নদী ছিল। কিছু দিনের মধ্যে এই সাড়ে পাঁচ মাইল জায়গা ভেঙ্গে ঐ মুরিদের বাড়ী সহ নদী হয়ে গেল। এখন সেই জায়গায় ইলিশ মাছের ঝাক দেখা যায়। জেলেরা অধিক সংখ্যক ইলিশ মাছ ধরার জন্য সেখানে যায়।
• স্থান: সাটুরিয়া নন্দেশীতে – মোর্শেদ কেবলা একদিন আসরের নামাজ আদায় করতে দেরি হয়েছিল অর্থাৎ নামাজের সময় প্রায় শেষের দিকে। তখন সাথে কয়েকজন মুরিদ ছিল তাদেরকে তিনি বললেন “মসজিদের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেও আমি নামাজ আদায় করি ” মসজিদের ভিতর মোর্শেদ কেবলা একাই নামায আদায় করছিলেন। দরজা-জানালা বন্ধ করে মুরিদরা বাইরে বসা ছিল, একটু পরে আব্দুল কাদের মোল্লা (মোর্শেদ কেবলার খদেম) ভাই ভাবলেন কোন জানালা খোলা আছে নাকি দেখে আসি, তিনি মসজিদের দরজা দিয়ে ভিতরে তাকিয়ে দেখেন মোর্শেদ কেবলার জায়নামাজ মাটি থেকে এক হাত উপরে উঠে আছে এবং মোর্শেদ কেবলা শূন্যের উপরে নামায আদায় করছেন (আলহামদুল্লিল্লাহ)। — চোখে দেখা সাক্ষী মোল্লা ভাই ও কয়েকজন মাওলানা সাহেবেকে আল্লাপাক আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।
• স্থান: গোলাকান্দা– মোর্শেদ কেবলা রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। সাথে মাওলানা মজিবুর রহমান লাহরী ও শওকত নামে দুইজন মুরিদ ছিলেন। তাঁরাও ঘুমালেন। গভীর রাতে মাওলানা লাহরী সাহেব উঠে দেখলেন মোর্শেদ কেবলা বিছানায় নাই তখন তিনি ভাবলেন মোর্শেদ কেবলা কি এস্তেঞ্জায় গেলেন, ভাল করে খুজেঁ দেখলেন নাই। মসজিদেও নেই। এদিক ওদিক খুঁজতে গিয়ে মাওলানা লাহরী ও শওকত সাহেব দেখলেন পশ্চিম পাশে পুকুরের মাঝখানে আকাশের উপর থেকে একটি উজ্জ্বল আলো এসে পরেছে সেই আলোর মাঝখানে মোর্শেদ কেবলা জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন! (আলহামদুল্লিল্লাহ)। কিছুক্ষন পর জায়নামায সহ মোর্শেদ কেবলা পানির উপর দিয়ে ভেসে পুকুরের কিনারের দিকে আসতে লাগলেন, উপর থেকে আলোটাও আসছিল। তখন মুরিদ দুইজন ভাবলেন মোর্শেদ কেবলা যদি তাদেরকে দেখে রাগ করেন, এই ভেবে দুইজনে এসে ঘরে শুয়ে পড়লেন। কিন্তু আল্লার ওলী বুঝতে পেরেছিলেন এরা দুইজন দেখে দেখে ফেলেছে, ঘরে এসে দুইজনকে বললেন “যা দেখেছো আমি জীবিত থাকা অবস্থায় কখনও কারো কাছে বলবে না ” – চোখে দেখা সাক্ষী মাওলানা মজিবুর রহমান লাহরী ও শওকত সাহেবকে আল্লাহপাক আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।
• ১৯৯৪ সালে উত্তর বাড্ডা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্জ হযরত মাওলানা মোঃ শামসুল হক সাহেব হজ্জ করতে যাবেন, তখন তিনি কুতুব-উল-আকতাব হযরত মাওলানা আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেবের (রহ:) নিকট দোয়ার দরখাস্ত করেন। মোর্শেদ কেবলা প্রিন্সিপাল সাহেবকে বললেন “মদীনা মনোয়ারায় মসজিদে নববীতে নামাজ আদায় করার পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর রওজা মোবারক জিয়ারতের সময় আমার সালাম ও দরূদ শরীফ দয়াল নবীজীকে (সাঃ) পৌছায়ে দিয়েন।” প্রিন্সিপাল সাহেব হজ্জ করতে গেলেন, তিনি হুজুর (সাঃ) এর রওজা শরীফে গিয়ে বাংলাদেশ থেকে যারা সালাম পাঠিয়েছিল একে একে সবার নাম বলে সালাম দিচ্ছিলেন যেই মাত্র প্রিন্সিপাল সাহেব দয়াল মোর্শেদ কেবলার নাম বলে সালাম দিলেন সাথে সাথে হুজুরপাক (সাঃ) এর রওজা শরীফ থেকে সালামের জবাব আসল “ওয়াকুল্লাহু মিননি সালাম” অর্থাৎ আমার সালাম ও তাঁহার নিকট পৌছায়ে দিও” (সুবহানাল্লাহ)। এ তরীকার ইমাম কুতুব-উল-আকতাব গরীব-ই-নেওয়াজ হযরত খাজা মাঈনুদ্দিন চিশতি (রহঃ) এর মত মানিকগঞ্জ পীর সাহেব হুজুর, দয়াল নবীজীর (সাঃ) পক্ষ থেকে সালামের জবাব পেলেন। নিজ কানে শোনা ও চোখে দেখা সাক্ষী আলহাজ্জ্ব হযরত মাওলানা মোঃ শামসুল হক সাহেবকে আল্লাহপাক আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।
যুগান্তকারী কিতাব রচনা
যখন বিজ্ঞান চর্চার উপর না-জায়েযের ফতোয়া ছিল, চশমা ব্যবহারটাকেও জায়েয হবে না বলে মনে করা হতো,গোড়া আলেম ও ভন্ড পীরেদের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছিল,ঠিক সে সময় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস গবেষণা করে যুগান্তকারী বিজ্ঞানভিত্তিক মহা কিতাবসমূহের মাধ্যমে সমাজ থেকে কুসংস্কার,অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় গোড়ামী বিদূরিত করেছিলেন।
সেই মহা কিতাবসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এখানে তুলে ধরা হলোঃ

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পর্দাঃ
ইসলামে পর্দা করা ফরজ। প্রতিটি ফরজের ভিতর মানুষের জন্য অশেষ কল্যাণ নিহিত আছে। নর- নারীর অশেষ মঙ্গল সাধনের নিমিত্তেই পর্দা প্রথার প্রচলন করা হয়েছে। আনেকেই ইহাকে অজ্ঞতাবশত নারী জাতীর স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে মনে করে। বস্তুত পর্দা প্রথার অবমাননা করলে কিভাবে সর্বস্তরের মানুষ নিশ্চিত অধঃপতন ঘনিয়ে আসতে পারে, এর বৈজ্ঞানিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং যুক্তিসঙ্গদ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ এই কিতাবের ভিতর সন্নিবেশিত করা হয়েছে। সমাজের নর- নারীকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য ও চরিত্রবান আদর্শ নর-নারীর সুশৃংখল জীবন পরিচালনার দিক নির্দেশনা হিসাবে মনোবিজ্ঞানের আলোকে ১৯৭৮ সালে সমাজকে উপহার দিয়েছেন বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পর্দা নামক মহাগ্রন্থটি। বেপর্দা নারীর স্বামীর কি যে সর্বনাশ হয় এবং সে কিভাবে যে অতিসত্ত্বর পুরুষত্ত্বহীন হয়ে পরে তা বিজ্ঞান এবং ডাক্তারী শাস্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যার ফলে অসংখ্য নর-নারী বেপর্দার বিষাক্ত জীবন থেকে ফিরে এসে পর্দার মাধ্যমে শান্তিময় ইসলামী জীবন বেছে নিয়েছে। এমনকি অনেক হিন্দু ও খৃষ্টান মহিলারা পর্যন্ত বোরখা পরে পর্দা করা শুরু করেছে।

তারানায়ে জান্নাতঃ
তারপর তিনি ১৯৮১ সালে “তারানায়ে জান্নাত” বা বিহিশতের সুর নামক অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অধ্যাত্মিক গজলের কিতাব প্রকাশ করে মহাকবির পরিচয় দিয়েছেন। যা সালিককে আল্লাহপাকের খুব নিকটে পৌছায়। তারানায়ে জান্নাত স্মরন করিয়ে দেয়, ৯৯৯ সালের দিকে মহাকাব্য শাহনামার লিখক মহাকবি ফিরদৌস ছাহিব, আনুমানিক ১২০৫ সালের “গুলিস্তার” লিখক আল্লামা শেখ সাদী ছাহিব (রহ.) এবং ১২৩৭ সালে “মসনবী শরীফের” লিখক মহাকবি মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী ছাহিব (রহ.) এর মত মুসলিম মহাকবিদের অমর কীর্তির কথা। বিচ্ছেদ বেদনাতুর হয়ে ঝংকৃত, কাব্যিক রসে স্মাত, ছন্দের দ্যোতনায় আপ্লুত অতি উচ্চ পর্যায়ের আধ্যাত্মিক গজলের কিতাব যা সালেককে (সাধক) আল্লাহপাকের খুব নিকটে পৌছায়। এলমে মা’রেফতের উচ্চাঙ্গের তত্ত্ব এই বইটিতে গজল আকারে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

মহাস্বপ্নঃ
হুযুরপাক (সা.)এর পর সুদীর্ঘ প্রায় ১৫ শত বছর পর তিনিই প্রথম তাঁর লিখিত “মহাস্বপ্ন” নামক কিতাবে
একটি হাদীস শরীফের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ করেছেন যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লিখা থাকবে। সুর্দীঘ্য দশ বছর নিরলস গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রম করে ১৯৮৬ সালে বিজ্ঞানকে উপহার দিলেন সম্পূর্ন নতুন একটি থিওরী (Man will have never been vanishing and one man divided into cores atom men after death and they can listen and watch with live feelings). “মৃত্যুর পর মানুষ নিঃশেষ হয়ে যায় না, একটি মানুষ কোটিকোটি পরমানু-মানুষে রূপান্তরিত হয় এবং তাঁরা অনুভূতি নিয়েই দেখতে ও শুনতে পায় আবিস্কার করেছেন” যা বিজ্ঞানের মতধারাকে পরির্বতন করবে। মৃত্যুর পর হিন্দুরা পুড়িয়ে, মুসলমান ও খৃষ্টানরা মাটিতে গলিয়ে দিলেও কিভাবে কৃপণ ব্যক্তির বুকে সাপে কামড়ায় তার প্রমান করা হয়েছে। যা ইতিহাসে ইসলামের নাম উজ্জ্বল করে রাখবে। তিনি এই মহা থিওরী আবিস্কার করে আবারও প্রমান করে দিয়েছেন ইসলামের মহা মনীষীদের মাধ্যমেই বিজ্ঞানের সূত্রপাত। এবং এ কিতাব মনে করিয়ে দিয়েছেন ৭৬৮ সালের রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান ছাহিবের কথা, যার লিখিত আল-কিমিয়া নামক মহাকিতাব থেকে পরবর্তীতে রসায়নের (Chemistry) জন্ম, তিনিই প্রথম সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি আবিস্কার করেছিলেন। আল-বাত্তানী তিনিই প্রথম ৮৯০ সালে ত্রিকোণমিতির সাইন (sin A), কোসাইনের (cos A) সাথে ট্যানজেন্টের (Tan A) সম্পর্ক আবিস্কার করেছিলেন এবং সর্ব প্রথম ৩৬৫ দিন, ৫ ঘন্টা, ৪৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ট= এক সৌর বছর প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, এবং টলেমীর বহু থিওরী সম্পূর্ন ভুল প্রমাণ করে দিয়েছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক, ১০১৫ সালের মহাকিতাব “আল কানুন ফি আল তিব্ব”(যা ছিল ১৭৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সমস্ত দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের একমাত্র পাঠ্য বই) এর লিখক আবুল আলী ইবনে সিনার (৩৭০-৪২৮হি./৯৮০-১০৩৭খৃ.)ইসলামের মর্যাদাপূর্ণ বিজয়ের কথা। একজন নবীন বিজ্ঞানী ও গবেষক মহাস্বপ্ন নিয়ে গবেষণা করে বলেছেন মহাস্বপ্ন নামক মহা কিতাবটি প্রায় ৭০০ বছরের ভিতরে অন্যতম মুসলিম মহাবিজ্ঞানীর আবিস্কার যা ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের গতিকে পরির্বতন করবে। উল্লেখ্য ১৯৭৯ সালে মহাবিজ্ঞানী হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব বলেছিলেন “মানুষের আঙ্গুলের একটু অংশ কেটে ফেললে ঐ কাটা অংশ থেকে অসংখ্য মানুষ তৈরী করা সম্ভব, যা প্রায় ২০ বছর পর ক্লোন থিওরীর রুপ নিল এবং ভেরা ডলি সৃষ্টি করা হল, মানুষ সৃষ্টির গবেষণা চলছে”।

জীবন রহস্য ও দেহতত্ত্বঃ (A Philosophy of physiology):
সমগ্র সৃষ্টির ভেতর মানুষের চেয়ে জটিলতম সৃষ্টি আর নেই। চিরদিনই মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, মানুষ কি একাই সৃষ্টি হয়েছে। না কেউ তাকে সৃষ্টি করেছে এবং অন্যান্য বিষয়েও। চিন্তারজগতে উপরোক্ত প্রশ্নকে নিয়ে নাস্তিকবাদ এবং অস্তিত্ববাদ দর্শনের ন্যায় দু‘টি বিপরীতধর্মী ভাবধারা যুগ-যুগান্তর ধরে চলে আসছে। মানুষ সকল কিছুর অস্তিত্বকে অস্বিকার করলেও তার নিজের অস্তিত্ব তার নিকট ধ্রুবতারার মতই সত্য। নিজেকে সে কিছুতেই অস্বীকার করতে পারে
না এবং তার নিজস্ব অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য তাকে কোন প্রকার যুক্তি প্রমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয় না। এই জাজ্জ্বল্যমান অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং সিষ্টেমগুলোর অস্তিত্ব এবং তাদের নিরবচ্ছিন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মধারাকেও মানুষ অকপটে স্বীকার করে নিয়েছে। এ সকল স্বীকৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং সিষ্টেমগুলোকে এই বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসাবে ধরে এগুলোর সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থাপন, সুশৃঙ্খল ও পরিপূরক কর্মতৎপরতার শক্তি ও নির্দ্দেশ কোথেকে প্রাপ্ত হয়, তার উৎস সন্ধানে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা এবং প্রমাণ পদ্ধতির মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামিনের অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয়েছে। ফিজিওলজি, এনাটমি, বায়োলজি, ইত্যাদির স্থিরকৃত সিদ্ধান্ত গুলোর আলোকে মানব দেহাবয়বের পরিকল্পনা ও গঠনে, দেহস্থিত যন্ত্রগুলোর প্রতিনিয়ত বিচিত্র এবং অপরিহার্য অলক্ষ্যে কাজ করে চলছে, সেই প্রশ্নের জবাব এতে দেওয় হয়েছে। ১৯৮৮ সালে তিনি “জীবন রহস্য ও দেহতত্ত্ব” নামক কিতাবের মাধ্যমে জীব বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ও দর্শণের যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন মহান আল্লাহপাক অতি দয়া করে মানব দেহের ভিতরের নানা জটিল কার্য কিভাবে অনবরত সমাধান করছেন এবং দেহটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। মেডিক্যাল সাইন্সের নির্যাস বের করে আল ক্বুরআন শরীফের আলোকে এ কিতাব খানি লিখেছেন। মানব দেহের কোথায় আল্লাহপাক থাকেন তাঁর সঠিক প্রমাণ করা হয়েছে। অনেক নাস্তিক এ কিতাব পড়ে আল্লাহপাকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছে।

মা’রিফাতের ভেদতত্ত্ব:
১৯৮৯ সালে “মা’রিফাতের ভেদতত্ত্ব” নামক মা’রিফাতের উচ্চাঙ্গের তথ্য ও দিক নির্দেশনা সম্বলিত কিতাব লিখেন যা চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীক্বার সালিকদের পাঠ্য বই হিসাবে ব্যবহিত হচ্ছে। এ কিতাব নিয়ে ১৯৯৩ সালে বড় বড় আল্লাহর অলী তথা গাযালী (রহ:) এঁর মত তাকেও তথা কথিত ফতুয়াবাজ ‘আলিমরা কাফির ফতোয়া দিয়েছিল। পরবর্তীতে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। আল্লাহর খাঁটি অলীর সাথে বেয়াদবী করার ফলে আল্লাহপাক বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে আইন করে ঐ ফতোয়াবাজ গোঁড়াদের ফতোয়া বন্ধ করে দেন। এদের এহেন কারনে আল্লাহর অলী সাময়িকভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে তিনি ফতোয়াবাজদের সম্পর্কে বলেছিলেন, “আমার ‘ইলম মা‘রিফাতের জ্ঞান প্রকাশ করার দরকার কি? কারো কবরে কেউ যাবে না, যার যার কবরে সে সে যাবে। যার যার মা‘রিফাত সে সে অর্জন করে নেক।

“মহা-ভাবনা” (A philosophy of astronomy): স্বর্ণপদক প্রাপ্ত:
এ গ্রন্থে তিনি মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষ কতটুকু, মহাবিশ্বের অনেক অজানা দূর্লভ তথ্য, মানবদেহের বিস্ময়কর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যিকর বা আধ্যাত্মিক মহাসাধনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করেছেন, যার ফলে অনেক অমুসলিমরা ও নিয়মিত যিকর করছে। এ কিতাব সমগ্র বিশ্বে এই প্রথম মহান আল্লাহপাকের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ (The World challenge) করা হয়েছে, যা বিশ্বের নাস্তিকদের মাথা নিচু করে দিচ্ছে। আল্লাহর অস্তিত্ব অনুধাবন ও তাঁর সাথে সরাসরি যোগসূত্র যে সম্ভব; তাঁর দর্শন ও বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা সম্বলিত মহাবিস্ময়কর গ্রন্থ এটি। কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ ও বিজ্ঞানের আলোকে আল্লাহপাকের বিশালতা সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করা হয়েছে এবং যুক্তি দিয়ে দেখানো হয়েছে, যে ব্যাক্তি আল্লাহপাকের ইবাদত করে না সে নিকৃষ্ট প্রাণীর চেয়েও অধম। যুগশ্রেষ্ট বিজ্ঞান ভিত্তিক ধর্মীয় এ মহা কিতাবে মহা সৃষ্টি সম্পর্কে তিনি জ্যোতিশাস্ত্র (Astronomy), দর্শণ (Philosophy), দেহবিজ্ঞান (Physiology), পদার্থবিদ্যা (Physics), রসায়ন (Chemistry), গণিত (Mathematics) ইত্যাদির আলোকে আলোচনা করেছেন।

ধুম পিপাসা সর্বনাশাঃ
‘ইসলাম’ মানুষের জীবন, স্বাভাব এবং প্রকৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ একটি জীবন বিধান। ধূমপান ইসলামে নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞাটি সম্পর্কে এতকাল কেবল ধর্মীয় আলোকে বিচার বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু এই বইটিতে ধর্ম ভিত্তিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণসহ শরীর বিজ্ঞানের আলোকে মানব দেহ ও বংশের ওপরে ধূমপান যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া ও সর্বনাশ
সাধন করে তা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা করা হয়েছে। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনার ইসলামী নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব ও যথার্থতা প্রমানের সাথে সাথে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানব জাতিকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যারা শত চেষ্টা করেও এ কু-অভ্যাসের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি কিংবা যারা এখনও নির্বিঘ্নে ধূমপান করে চলছে তাদের এই মহা ক্ষতিকর প্রবণতার অক্টোপাস থেকে পরিত্রানের সহজ বিধান ও বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে “ধুম পিপাসা” সর্বনাশা কিতাবের মাধ্যমেই প্রকাশ করেছেন কি উপায়ে ধুমপান করলে কোন ক্ষতি হয়না এবং ধুমপান করলে কি সর্বনাশ হয় এবং তা ডাক্তারী শাস্ত্রের মাধ্যমে তা দেখানো হয়েছে। ধুমপান করলে যে ক্ষতি হয়, তা নষ্ট করার নিয়ম এবং ধুমপান কিভাবে ত্যাগ করা যায়, তার
একটি অব্যর্থ উপায় লিখে দেয়া হয়েছে। ইহা বহু পরীক্ষিত।

পীর ধরার অকাট্য দলিলঃ
মহান আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামীন আপন পরম সত্ত্বায় তামাম মাখলুকাতকে পরিব্যাপ্ত করে রয়েছেন অনন্তকাল ধরে। তাঁর হাকিকত মা‘রেফত বা যথার্থ পরিচয় লাভ সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক জ্ঞান শুধু তাছাওফের কিতাব পাঠ করেই পাওয়া যায় না। আল্লাহয় নিবেদিত প্রাণ তাওয়াক্কুলে মগ্ন তওহীদে পরম বিশ্বাসী আওলিয়া, সুফী, দরবেশ, পীরে কামেল মোর্শেদগণেরে এশক পরিপূর্ণ হৃদয়পটে দানা বেঁধেছে প্রকৃত জ্ঞানের তথা আল্লাহ তায়ালাকে লাভ করার জ্ঞান পদ্ধতি। তাই তাই যুগে যুগে অবিরাম গতিতে ছুটে যান সালেকগণ ও ঈমানদারগণ তাঁদের নিকটে এক অমোঘ আকর্ষণে। এসব আল্লাহওয়ালা কামেলদের নিকটেই মিলে পরম শান্তি, বহু আকাঙ্খিত সেই পরম সত্ত্বার অনুভূতি। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও তাঁর তাওহীদগত প্রাণ বীর সাহাবাগণের নিকট হতে এবং পরবর্তীকালে, পীরে কামেল ও মোকাম্মেল আওলিয়া সুফী দরবেশগণের পবিত্র স্পর্শে রূহানী শক্তিতে ও দীক্ষায় একদিকে যেমন নফসের এসলাহে রত ছিলেন এবং আছেন লাখো ঈমানদার মানুষের কাফেলা, অন্যদিকে পুরাতন কাল থেকেই অপর একটি প্রশ্নও মানুষের মনে জেগেছে কেন পীর ধরতে হবে? কোরআন শরীফ ও হাদীস শরীফের ভিত্তিতে ধর্মীয় ও ব্যবহারিক নিত্য জীবনধারার আলোকে প্রশ্নটির সঠিক উত্তর এই বইটিতে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সুফীবাদের নামকরণে শরীয়ত বিরোধী অনৈসলামিক কর্মে নিয়োজিত পীর নাম ধারী ভন্ডদের ক্রিয়া-কলাপে বিভ্রান্ত মানব সমাজকে হক্কানী আল্লাহওয়ালা পীরের পরিচয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। বস্তুত প্রকৃত আল্লাহ ওয়ালা হক্কানী পীর মোর্শেদের মাধ্যমেই যে জগতের বরণীয় স্বরণীয় মহাত্মাগণ প্রকৃত জ্ঞানের তথা আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামিনকে কিভাবে লাভ করা যায়। তাঁর সন্ধান পেয়ে ইসলামকে মহান ও অপরূপ মহিমায় উজ্জল করে গেছেন তাঁর অকাট্যতাই নতুন করে তুরে ধরা হয়েছে, সাথে সাথে কি পদ্ধতিতে আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামিনকে লাব করা যায় সে পথ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। “পীর ধরার অকাট্য দলিল” লিখে প্রমাণ করেছেন আল্লাহপাকের সান্নিধ্য পেতে হলে একজন হক্বানী পীর অবশ্যই ধরতে হবে। পৃথিবীর যুগশ্রেষ্ঠ সমস্ত আল্লাহর অলীরা সবাই পীর ধরেই মহামনীষী হয়েছেন, সে সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন। অনেকে বলে, পীর ধরার দরকার নেই। এসব কথার সদুত্তর কুর’আন শরীফ থেকে অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, পীর না ধরলে মানুষ আল্লাহকে চিনতে পারবে না এবং মা’রেফতের জ্ঞান লাভ করতে পারবে না, অবশ্য আল্লাহপাক ইচ্ছে করলে সবই পারেন। পৃথিবীর যুগশ্রেষ্ঠ সমস্ত আল্লাহর ওলীগণ সবাই যে পীর ধরেই মহামনীষী হয়েছেন, সে সম্পর্কে সঠিক আলোচনা করা হয়েছে।
অমূল্য বাণী
* জীবনের প্রথম শাখে যে কোকিল প্রথম ডাকে, হোক সে কুৎসিত কালো, তবু জীবনের আলো।
* নেয়ামতের কদর যে না করে, নেয়ামত তার কাছে থাকে না।
* মুসলমান জাতির সর্বনাশ হয়ে গেল বুদ্ধি খাটাইয়া।
* এবাদতের ভরসা কিন্তু করেন না,এ কিন্তু সার কথা কইলাম।
* আল্লাহপাকের নাম নিয়া যদি এই দেহটাকে পুড়াইয়া দিতে পারেন একবার, দেখবেন কোটি কোটি বছর কবরে আপনার দেহ পড়ে থাকলে একটা পশমও হিবে না।
* প্রায় দেড় হাজার বছর আগে রাসূলুল্লাহ (সা:) কি কথা বলেছেন, যুদ্ধের সময় কোন কথা বলতেন, হযরত আলী (রা:) কে ঘাড়ে করে পানি আনতে বলেছেন। সব কথা আজ ও বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
* হুজুরপাক (সা:) বলেছেন বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মাত্র ৭০ হাজার খাটি ঈমানদার থাকবে,তুমি বসে বসে ভাব তুমি এ পরীক্ষায় টেকো কিনা।
* একটি বাতির আলো হলে বিশ্ব ধরা জ্বলে একটি মানুষ মানুষ হলে বিশ্ব ভুবন চলে।
* একটি কথা তিনি লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের সামনে প্রায়ই বলতেন তা হলো আমাকে যদি কেউ কখনো পান খাওয়ার সময় ডান হাতের পরিবর্তে বাম হাতে চুন খেতে দেখেন এবং কোন সুন্নত এমনকি একটি মোস্তাহাবেরও খেলাপ করতে দেখেন তাহলে আমার মুরিদ হয়ে যদি আমাকে সংশোধন করে না দেন তাহলে কেয়ামত পর্যন্ত ঠেকা (দাবি) থাকবেন।
* আমার একটা অনুরোধ,হাদীস শরীফে যা আছে যেমন আছে এবং কোরআন শরীফে যা আছে যেমন আছে তেমন ভাবেই জীবন চালাতে হবে। এর বাইরে আমার ধারে (নিকট) যে বায়াত (মুরিদ) হইয়া থাকেন কোন বুদ্ধি খাটাইতে পারবেন না, যদি খাটান আমি তার পীর না, সে আমার মুরিদ না।
* মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানে ক্রমাগতভাবে এমন উন্নতি করেছে যে, এরপর মানুষ আর মানুষ থাকবে না, খালি জ্ঞানই হবে। যদি কেউ হেটে যায় মানুষ বলবে একটা জ্ঞান হেটে যায়, এত জ্ঞানী মানুষ হবে এরকম হতে হতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে অস্বীকার করবে (নাউযুবিল্লাহ) করতে করতে আবার খুব যদি জ্ঞানী হয় তখন সে ফিরে আবার আল্লাহপাকের কুদরতী পায়ে পরে কান্দা শুরু করবে (আলহামদুলিল্লাহ)।
* কোন শব্দ শুরু হলে সেটা কোথাও যেয়ে শেষ হয় না,যেতেই থাকে, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে যেয়েও শেষ হয় না, এভাবে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে যায়, যেতে যেতে আল্লাহপাক পর্যন্ত যায়।
* তুমি দেখিতেছ পাহাড়গুলি স্থির হইয়া রহিয়াছে। অথচ উহা মেঘের ন্যায় চলাফেরা করিতেছে।
* দেখলে তাঁরে দেখার মত, সাধনা কি লাগত এত? ভাবলে তাঁরে ভাবার মত, ভাবনা রইত না আর ।
* ছবক হল পীরের জান, নিজের প্রাণ আর আল্লাহকে পাওয়ার সিড়ি।
* পীর চিনে পীর ধর, পীর যদি হবে, নইলে পীরের ধন কত কাল খাবে।
* মানুষের যখন পূর্ণ কাজ করার সুযোগ আসে তখন আসল মানুষটি নীরব হয়ে যায়।
* আখেরাতকে সর্বদা আগে এবং দুনিয়ার কাজকে সর্বদা পিছনে রাখবা।
* বেয়াদবের জন্য দুনিয়া ও নাই আখেরাতও নাই।
* আল্লাহপাকের দয়া পাবার একমাত্র উপায় হল আল্লাহর জিকির।
* কোরআন হাদীসের সার কথা হল আত্মসমর্পন করা।
* একদম মাটি হও গীবত শেকায়েত কইর না, মনে রাইখ নিচু জায়গায় পানি জমে।
* পীর মোর্শেদ যা বলে তা মান, হাসি-ঠাট্রা করে বললেও তা মান।
* আল্লাহকে পাইতে বেশি এলেমের দরকার হয় না,আল্লাহকে ঠিক রাখতে যথেষ্ট এলেমের দরকার।
* মূর্খ লোকের ঈমান কচুপাতার পানি।
* মুরিদ কথার মানে মরে যাওয়া।
* ঘরে যার সম্মান নাই, এ বিশ্বে কোথাও তার সম্মান নাই।
* আমার মুরিদ যারা, পয়সার চিন্তা করবা না,আল্লাহর চিন্তা করবা।
* মন যদি সদা করে গতি বৃথা তব দরবেশ নাম নির্জন বসতি।
* আসলে সকল কাজ সেই জনে করে আপনি করিয়া কাজ, পরের নাম ধরে।
* দূরত্ব গাড়ির চাকায় নয়, দূরত্ব হল মনে।
* চেতন মোর্শেদ পাওয়া যে ভার, নছিবেতে মিলে যার।
* ডিউটি সময়মত করবা, দেকবা তোমার কপাল থেকে ডিউটি মাফ হয়ে গেছে।
* তুমি যদি পুত্রধনে সুখি হতে চাও তাহলে ছেলেকে ধর্মবিদ্যা শিক্ষা দাও।
* পয়সার চিন্তা যারা করে,পয়সা কোনদিন তাদের জুটবে না, আল্লাহর চিন্তা কর, পয়সা পিছে পিছে ঘুরবে।
* আমার মুরিদ যারা, টিভি ঘরে রাখবা না।
* তুমি যা ভাব, তুমি তা নও, তুমি যা চিন্তা কর তুমি তাই।
* এ ভব সাগরে হাঁস হয়ে ভাস, দুনিয়ার চিন্তা যেন গায়ে না লাগে, শুধু জেকের, শুধু জেকের-যদি বাঁচতে চাও।
* যদি হাসরের ময়দানে আমলনামা পরিস্কার রাখতে চাও বেশি বেশি আসতাগফিরুল্লাহ পড়।
* আমার মুরিদ যারা কোন পার্টিতে যাবা না শুধু আল্লাহর পার্টিতে থাকবা।
* সব চাইতে হতভাগ্য ঐ ব্যক্তি, পীরের কাছে থাইকা ও যে দূরে থাকে, কাছে থাকে না।
* নিশ্চয় আছেন একজন যে অর্থে আমরা বুঝি যে অর্থে আমরা খুজি হয়ত তিনি তেমন নন, নিশ্চয় আছেন একজন তাঁর নাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।
* মর আর বাঁচ,শুক্রবারদিন ১০০ বার দরুদ শরীফ পড়বাই পড়বা।
* প্রেম-ভালবাসা ছাড়া কিছু হবে না।
* মোমেন হওয়ার মানে বেয়াক্কেল হওয়া নয়, সরল হওয়া মানে কর্মহীনতা নয়।
* আল্লাহ পাকের সাথে সংযোগের মুখপাত্র হল-মৃত্যু চিন্তা করা।
* এলেমের যখন মৃত্যু হয়,আলেম তখন আলেম হয়।
* ধর্ম বুঝা আগে ফরজ, আর ধর্ম করা পরে ফরজ, সাধারণ মানুষে ধর্ম করা ফরজ লইয়া আগে টানাটানি করে।
* নিম্নমানের খানা খাও উচ্চমানের চিন্তা কর।
* আদব হল মুরিদের জন্য ফরজ।
* যেখানে লাভের জায়গা সেখানে ক্ষতিরও ভয় থাকে।
* তরিকতপন্থী মানুষের পায়ের নীচে সব সময় পুলছিরাত থাকে।
* যে যত বড় জ্ঞানী,তার পেছনে মনে রাখবেন তত বড় একটা শয়তান আছে।
* জেকের ছাড়া কোন কায়দায়ই আল্লাহপাককে ধরতে পারবেন না।
* আল্লঅহপাক রাব্বুল আলামীন-এর বিধানে রাজি থাকার নাম হল মারেফত।
* দুনিয়ায় যত কানবা, কবরে যাওয়ামাত্র হাসবা, আর দুনিয়ায় যত হাসবা,
* কবরে যাওয়া মাত্র কান্দন শুরু হয়ে যাবে।
* আল্লাহপাকের এক নাম হল-ঈমান। জীবন থাকতে যে মরণ বুঝল তার মত যোগ্য লোক খুব কমই আছে। জীবন থাকতে যে মরণ বুঝল না তার মত হতভাগ্য আর নাই।
* যদি সংশোধন করতে মন চায়,অনুতাপ করতে মনে চায় তবে এখন কর,
* এই মুহূর্তে কর, সর্বদা, অনবরত, প্রতিনিয়ত সংশোধনের তালে থাক।
* পীর না ধরলে মানুষ মানুষ হয় না।
* সৃষ্টি হয়ে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করা জীবনের সবচাইতে পরম পাওয়া।
* দারিদ্রতা কখনো পকেটে থাকে না, দারিদ্রতা থাকে মনে, বিদ্যা থাকে আমলে, বিদ্যা কখনো ব্তে থাকে না।
* মনের মাঝে অনেক বেদনা রাখতে হয়, তবেতো অনেক মানুসের বেদনা সহ্র করার ক্ষমতা হয়।
* উঠ,জাগ,অভিষ্ট সিদ্ধির আগে ক্ষান্ত হঈও না।
* আল্লাহপাককে সঙ্গে করে কবরে না নিয়ে যেতে পারলে খুব মুশকিল হবে, অত্যন্ত মুশকিল হবে, যা তুমি ধারণাই করতে পারবে না।
* দুই জায়গায় কখনো বুদ্ধি খাটাইও না, অন্ধকারকে কখনো বিশ্বাস কর না আর যে সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান নাই সেই জায়গায় কখনো জ্ঞান খাটাইও না।
* বেচেঁ আছ এই আশ্চর্য, নাই মোর্শেদের সাহচর্য্য, থাকত যদি একটু ধৈর্য্য,
* ঐশ্বর্য্য আর গায় ধরত না।
* নদীতে কইরা নোঙ্গর বাইতাছ গুদারা নাও জনম ভরা বাইলা তরী তবু না ফুরাইল গাঁও।
* এক ভাল লাভ করতে যেয়ে জীবনের অনেক ভাল ছাড়তে হয়।
* ধর্মের সারকথা হল মানুষ হওয়া।
* তোমার দুর্বল ঈমানের সঙ্গে একটা সবল ঈমানের যোগ কর।
* ক্ষুদা, রাগ, টাকা-পয়সা এই তিন জিনিস পরীক্ষা না করে কারও সাথে বন্ধুত্ব কর না।
* ভবিষৎ যতই সুন্দর হউক অমঙ্গল কইরা দেখ তাকে।
* যার বিবি ছবক (জিকির)করে না, মনে রেখ, তার ঘরে একটা সাপ পাল, সে তোমায় টাইনা জাহান্নামে নিয়ে যাবে।
* মউতকে যত দূরে জানবে, মারফতকে তত দূরে জানবে।
* মোর্শেদের দরবার হল নিম্নগামী, কোন সময়ই ঊর্ধ্বগামী নয়।
* আল্লাহপাক যা হুকুম করেছেন তা কর আর যা হুকুম করেন নাই তা কইর না,
* তাই তুমি আল্লাহর ওলী হয়ে গেলা।
* বিশ্বাসকে যে ভাল কইরা বিশ্বাস করে এ দুনিয়ায় তার সুখের সীমানা থাকবে না।
* বান্দার চোখের পানির সঙ্গে আল্লাহপাকের সঙ্গে, জেকেরের সঙ্গে আল্লাহপাকের সঙ্গে একটা দারুন রকমের সম্পর্ক আছে।
