হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (দা: বা:)(হাফি.)।
জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, অন্যতম চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক, শাইখুল হাদীস, হযরত মাওলানা মুফতি ড.মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব ১৯৬৬ সালের ৯ মার্চ, মানিকগঞ্জ জেলার অর্ন্তগত মানিকগঞ্জ থানার ছিদ্দিকনগরে সুপরিচিত সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত, অলী ও সাইয়্যেদ পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি দুনিয়াতে আসার পূর্বে তাঁর পিতা কুতুব-উল-আকতাব আলহাজ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহঃ) মহান আল্লাহর নিকট চোখের পানি ঝরিয়ে দু‘আ করেছিলেন, তাঁর ভাষায়, “মাবূদ আপনি আমাকে একটি ছেলে সন্তান দান করেন এ সন্তানকে আপনি হযরত বড় পীর আবদুল কাদির জিলানী (রাহ.) এর মত একটি রুহ মুবারক দিয়েন, এ ছেলেকে আমি আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দিব” যুগ শ্রেষ্ট এ উচ্চস্তরের অলী যাকে দু’আ করে দুনিয়াতে এনেছেন তিনি অবশ্যই ব্যতিক্রম। তাঁর মাতার নাম মোসাম্মৎ নূরুন নাহার ছিদ্দিকা, তিনি ইসলামী জীবন ব্যবস্থার আর্দশ অনুসারী ও একজন উচ্চপর্যায়ের পরহিযগার তাপসী, তাঁর সম্পর্কে কুতুব-উল-আকতাব বলেছিলেন, আমি ইসলামের যতটুকু খিদমত করতে পেরেছি সব কিছু আপনাদের আম্মা হুজুরের জন্য, তিনি যদি আমার সকল কিছু ভিতর থেকে গুছিয়ে না দিতেন আমি কিছুই করতে পারতাম না। তিনি অত্যন্ত উচ্চ বংশের কন্যা। ড. মুহাম্মাদ মনজুরুর ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবের দাদার নাম আলহাজ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ নছিমুজ্জামান ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.), যিনি তেরশ্রী কলেজের একজন অত্যন্ত উচ্চজ্ঞান সম্পন্ন আর্দশ শিক্ষক ও হাক্বানী ‘আলিম ছিলেন, তিনি উর্দূ কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তাঁর দাদামহ ডা: সাইয়্যেদ আবদুল জাব্বার ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) তৎকালনী একজন খ্যাতনামা বিলাত ফেরত সার্জন ও ইসলামী চিন্তাবিদ ছিলেন। তিনি ফারসী ভাষার উচ্চ স্তরের কবি ছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ইরাকের বাগদাদ থেকে ভারতের কাশ্মীর হয়ে এদেশে এসে ছিলেন।
শিক্ষা জীবনঃ
প্রখর স্মরন-শক্তি সম্পন্ন মেধাবী ছাত্র হিসাবে তিনি শিক্ষক মন্ডলীর নিকট সুপরিচিত। শিশুকাল থেকেই তিনি ব্যতিক্রমী। তিনি অন্য সকল শিশুর মত অতিরিক্ত খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন না। শিশুকাল থেকেই তিনি প্রকৃতি থেকে জ্ঞান অর্জন করতেন। তিনি মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ১৯৮২ সালে আলিম ও ১৯৮৫ সালে ফাযিল সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে বি.এ.(অনার্স) (এরাবিক) ও ১৯৯২ সালে এম.এ.(এরাবিক) পরীক্ষায় যথাক্রমে ১০ম ও ২য় স্থান অধিকার করে মেরিট লিষ্টে স্থান করে নেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেন্ট্রল ল’ কলেজ থেকে এল.এল.বি ও মুহাম্মাদপুর আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা থেকে এম.এম.(আল হাদীস) ডিগ্রী লাভ করেন। প্রাকৃতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন (Natural Talent) ও তাঁর পিতার বিশেষ দু‘আর ফলে তিনি লেখাপড়ায় খুব বেশী সময় দিতে হতো না। তিনি ১৯৯৪ সালে এরাবিক ক্ল্যাসিকে এম.ফিল.করেন। তারপর তাঁর পিতার নির্দেশে ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচ.ডি গবেষক হিসেবে যোগদান করেন। পিএইচ.ডি গবেষণার শিরোনাম ছিল: ইমাম আযম আবূ হানীফা (রাহ): ফিকহশাস্ত্রে তাঁর অবদান। তাঁর এম ফিল ও পিএইচ.ডি’ র তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেশ বরেণ্য প্রখাত আলিম বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আরবী ভাষা বিশেষজ্ঞ, ডবল স্বর্নপদক প্রাপ্ত, বহু ভাষাবিদ, বহু গ্রন্থ রচয়িতা আ.ন.ম.আবদুল মান্নান খান ছাহিব, প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১২ ডিসেম্বর ২০০৯ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর মো: জিলুর রহমান তাঁকে আনুষ্ঠনিকভাবে পিএইচ.ডি ডিগ্রী প্রদান করেন। আরবী সাহিত্যের্ (Arabic Literature) জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব আল্লাহপাকের মেহেরবানীতে চিকিৎসা বিজ্ঞান (Medical Science), মহাকাশ বিজ্ঞান (Space Science), দর্শণ (Philosophy), মনোবিজ্ঞান (Psychology), পদার্থবিদ্যা (Physics), রসায়ন (Chemistry), আইন বিজ্ঞান (Jurisprudence) হানাফী ফিকহশাস্ত্র (Science of hanafi jurisprudence) ইত্যাদি বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধীকারী হন। তিনি বি.এ.অনার্স সম্পন্ন করার পর বি.সি.এস. ক্যাডারে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ফর্ম এনেছিলেন। তখন তাঁর পিতা তাঁর মাতাকে বলেছিলেন, ওর বি.সি.এস.পরীক্ষা দেয়ার দরকার নেই, পরীক্ষা দিলেই ম্যাজিষ্ট্রেট হয়ে যাবে তখন আমার দরবার চালাবে কে? এই বলে তাঁকে আর আবেদন পত্র জমা দিতে দেন নি। এ থেকেই বুঝা যায় তিনি শিশুকাল থেকেই তাঁর পিতার হৃদয়ে নজর কেড়েছিলেন।
আধ্যাত্মিক মহাসাধনা জীবনঃ
ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব জন্মগত ভাবেই আল্লাহর অলী। তিনি শিশুকাল থেকেই আধ্যাত্মিক পরিবারে পরিপূর্ণ ইসলামী আদর্শে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর কুতুব-উল-আকতাব পিতার সঠিক তত্ত্বাবধানে তিনি পরিপূর্ণ সুন্নতের পাবন্দ ছিলেন। পরিপূর্ণভাবে সুন্নতকে মেনে ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় চললে সে কত সুন্দর হতে পারে সেটি তাঁর বেলায়েতী সূরাত স্বচক্ষে না দেখলে অনুধাবন করা যাবে না। তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার সবচে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর মুর্শিদ কেবলা ও পিতার খিদমত করা। তিনি তাঁর মুর্শিদ কিবলা ও পিতাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। সাথে বেশ তাঁর পিতার কোন হুকুম পেলে সেটি সমাপ্ত না করে তিনি ক্ষান্ত হতেন না। হুকুম যত কঠিনই হোক না কেন জীবনের সবোর্চ্চ শক্তি দিয়ে তিনি তা পুংখ্যানুপুংখ্য ভাবে পালন করতেন। তিনি শিশুকাল থেকেই মিতব্যয়ী, বিচক্ষন ও উচ্চ মনের দরদভরা দানশীল মানুষ ছিলেন। অপব্যয় ও অলসতাকে তিনি ঘৃনা করেন। তাঁর খেয়াল অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের। একবার তিনি বাড়ীর ভিতর থেকে ফেলে দেয়া এক খন্ড কাঠের টুকরো সংগ্রহ করে আবার বাড়ীর ভিতরে নিয়ে যত্ন করে রেখেছেন। তখন সেই কাঠের টুকরোটি তাঁর পিতা দেখে তাঁর মাতাকে বললেন, এটি বাড়ীর ভিতর কে এনেছে? তিনি বললেন কে আর আনবে আপনার ছেলে মনজু এনেছে। তখন কুতুব-উল- আকতাব অন্তর থেকে বিশেষ দু‘আ করে বলেছিলেন, তুমি দেখে নিও আমার এ ছেলেই একদিন আমার দরবারের সব কিছু দেখে ঠিক করে রাখবে। আজ প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহর অলীর সে কথা বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। তিনি তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব তা‘লিমে যিকর মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের হাল তাঁর বলিষ্ঠ হস্তে ধরে গোটা বিশ্বে ইসলাম প্রচারের কাজ বৃদ্ধি করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। সে দিন খুব বেশী দূরে নয় যখন মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশী বিদেশী বিধর্মী নাগরিকরা এসে আল্লাহর যিকর শুনে দলে দলে ইসলাম গ্রহন করবে। তাঁর অধ্যাত্মিক সাধনার ভিতর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো তিনি যখন শিশু তখন তাঁর পিতা কবর খুড়ে মাটির নিচে দীর্ঘ দিন বিশেষ মুরাক্বাবা মুশাহাদা ও যিকর করতেন। কিন্তু ঐ বয়সেই তিনি তাঁর পিতা কবর থেকে বেড়িয়ে আসলে সেই কবরে বসে আল্লাহর যিকর করতেন। তাঁর পিতা কুতুব-উল-আকতাব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) একটি সাইকেল চালিয়ে কলেজ থেকে বাড়ীতে আসতেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ইসলামের দাওয়াতের জন্য সফর করতেন। শিশুকালেই তিনি প্রতিদিন অত্যন্ত যত্ন করে তাঁর পিতা ও মুর্শিদ কিবলার সেই কিবলার বরকতময় সাইকেলটির চাকা, প্যাডেল, হ্যন্ডেল ইত্যাদি মু্ছে পরিষ্কার করে নতুন করে দিতেন। ইলম মা‘রিফতের গভীর জ্ঞান ছাড়া কখনই কোন সাধারণ শিশুর পক্ষে এ কাজ সম্ভব নয়। তিনি তাঁর পিতার ইনতিকাল পর্যন্ত একনিষ্ঠভাবে তাঁর বিশেষ খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন।
খিলাফত (সনদ) প্রাপ্তিঃ
১৯৯৯ সালের ২০শে ফাল্গুন কুতুব-উল-আকতাব আলহাজ্জ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) তাঁর সুযোগ্য বড় ছাহিবজাদা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিবকে, চিশতিয়া ছাবিরিয়া ও কাদরীয়া উভয় তরীক্বার পূর্ণ খিলাফত দান করেন। ঘিওর থানার তেরশ্রী পয়লা গ্রামে তাঁর দাদার বাড়ী, সেখানে তাঁর দাদা ও দাদীর কবর শরীফের সামনে তাঁকে খিলাফত দান করা হয়। এ সময় একটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল, সেটি হলো, সেদিন তেরশ্রীতে বেশ কয়েকজন ফকির লাইনের বড় চুলওয়ালা লাল কাপড় পরিধান করা সাধক এসেছিলেন। তখন ১৯৯৯ সাল, কুতুব উল আকতাব কে দেখার জন্য ও তাঁর নিকট দলে দলে বায়‘আত হওয়ার জন্য সকল মানুষ ছুটে আসতো। তাঁকে যেখানেই মানুষ পেতো দল বেধে তাঁর নিকট বায়‘আত হতো। কিন্তু সেদিন সেই ফকির সাধকরা কুতুব উল আকতাব (রাহ.) এঁর নিকট বায়‘আত হলো না, তারা বললো আমরা আপনার নিকট বায়‘আত হবো না যদি আপনার ছেলে আমাদেরকে বায়‘আত করে তাহলেই আমরা বায়‘আত হবো। কুতুব-উল- আকতাব (রাহ.) এঁর ভাষায় তখন আমি দেখলাম লোক গুলো বায়‘আত যদি না হয় তাহলে এরা আল্লাহকে পাওয়ার ওসিলা থেকে বন্চিত হয়ে যায়। তখনই আমি আমার বাপজান ও মায়ের কবরের সামনে আল্লাহর বান্দা মনজুকে খিলাফত দিলাম। তারপর তারা মনজুর নিকট বায়আত হয়ে গেল। তাঁকে খিলাফত দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে আরো অনেক আগেই হুকুম এসেছিল কিন্তু আমি আর কিছু বিলম্ব করতেছিলাম এ কথাগুলো ১৯৯৯ ইং সালে বাৎসরিক ইসলামী মহাসম্মেলনে লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মুখে তিনি বলেছেন। খিলাফত দেওয়ার পর ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কুতুব-উল-আকতাব বলেছেন, মনজু আমার ছেলে তাই তাঁকে আমি খিলাফত দেই নাই ও তোমাদের সকলের চেয়ে ব্যতিক্রম, আমল আখলাকের দিক দিয়ে তোমাদের চেয়ে ভাল, ও কখন ও চায়ের দোকানে বসে অযথা সময় নষ্ট করে নাই, ও কোন দিন বিড়ি খায় নাই, তোমরা কে কি কর তা আমি জানি, ও দরদী মনের একজন মানুষ তাইতে তাকে আমি খিলাফত দিছি। তাছাড়া তোমরা ওর চেয়ে যোগ্য, ওর চেয়ে শিক্ষিত একজন আন আমি তাকে খিলাফত দেই। আমি তোমাদের একজন দরদভরা মানুষের নিকট রেখে গেলাম। যদি কখনও কেউ দরবারের বিরুদ্ধে কিছু করতে চায় তোমরা সকলে তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করবে, তোমরা দুই হাত তুলে আমাকে দেখাও, তখন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ হাত উচু করে আল্লাহর অলীকে দেখিয়েছেন।
তরীক্বা পরিচালনাঃ
২০০০ সালের ২১ মে দিবাগত রাত্রি অর্থাৎ সোমবার কুতুব-আল-আকতাব আলহাজ্ব অধ্যাপক হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আযহারুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব (রাহ.) ইনতিকাল করেন। তারপরই তরীক্বা পরিচালনার মহাদায়িত্ব তাঁর পালন করতে হয়েছে। ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব তাঁর বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা, ধৈর্য, ক্ষমা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে তরীক্বার খিদমতকে আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে দেন। ইতিমধ্যেই কয়েকটি কিতাব আরবী ও ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। তারপর ১৯৭৭ সালে তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত জামি‘আ ‘আরাবিয়া ছিদ্দিকীয়া দারুল ‘উলম মাদরাসার জন্য পাঁচ তলা ভবন নির্মাণ করে মাদ্রাসার মান উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার করেন। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত মেলায় তার প্রতিষ্ঠিত ছিদ্দিকীয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে অংশগ্রহন করানোর মাধ্যমে দেশ বরেণ্য ‘আলিম ও জ্ঞানী মহলে তাঁর পিতার লিখা কিতাব সমূহ তুলে ধরেন। যা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়ে কিতাবের বহুল প্রচার ঘটিয়েছে। তারপর ঢাকার উত্তর বাড্ডায় প্রতিষ্ঠিত খানকায়ে ছিদ্দিকীয়া আধুনিকায়ন করে আগত জনসাধারন যেন খুব সাচ্ছন্দে বসে মহান আল্লাহর যিকর করতে পারে তাঁর সুব্যবস্থা করেন। তারপর ২০০৪ সালে ৯ ই জুলাই মহাভাবনা প্রতিবিম্ব উদ্বোদনের মাধ্যমে ছিদ্দিকীয়া রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত করেন। তারপর তিনি বাংলাদেশের প্রথম গবেষণামূলক ইসলামী পত্রিকা মাসিক ভাটিনাও প্রতিষ্ঠিত করেন। সাথে সাথে ছিদ্দিকীয়া সেমিনার রুম প্রতিষ্ঠা করেন সেখানে জ্ঞানী মহলের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ২০০১ ইং সালে মানিকগঞ্জ দরবার শরীফের মেধাবী ছাত্র ও যুবকদের নিয়ে তিনি ছিদ্দিকীয়া ইসলামী যুব সংঘ নামক একটি গবেষণা ও সেবামূলক সেচ্ছাসেবক সংগঠন প্রতিষ্টা করেন, যার চেয়ারম্যান তাঁর আদরের সন্তান আল্লাহর বান্দা হযরত মাওলানা মিকদাদ ছিদ্দিকী ছাহিব। উল্লেখ্য আল্লাহর বান্দা হযরত মাওলানা মিকদাদ ছিদ্দিকী ছাহিব তাঁর দাদুভাই ও পিতার মত মেধাবী ছাত্র তিনি অল্প বয়সেই তাঁর পিতার মত পড়ালেখার পাশাপাশি তাঁর পিতার নিদের্শে ইতিমধ্যেই তরীক্বার কাজে সহযোগীতা করছেন। ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব ২০০৮ সালের নভেম্বরে একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করেন, যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে। অন্যদিকে ঐতিহাসিক বন মহাসম্মেলন করার জন্য তিনি মানিকগঞ্জের উথুলীর কলাবাগানে সামাজিক বনায়ন করেন। যা একদিকে দেশের অক্সিজেনের চাহিদা পূরনে অবদান রাখছে পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ যিকরকারী প্রাণভরে প্রকৃতির পরশে মহান আল্লাহর মধুর নামের যিকর করছে। তারপর তিনি মানিকগঞ্জের উথুলীর কলাবাগানে নতুন একটি মাসিক মাহফিল চালু করেন। সেখানে তিনি একটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা করেন। ইতিপূর্বে তিনি ঘিওর থানার তেরশ্রী ও কৃষ্ণদিয়ায় দুটি জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠাতা করেন। এ সকল কাজের সাথে সাথে ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব অক্লান্ত পরিশ্রম করে বৃহত্তর ঢাকা, টাঙ্গাইল, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, চূয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনায় নতুনভাবে চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীক্বার আলো ছড়িয়ে দেন। অদূর ভবিষ্যতেই গোটা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরেই চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীক্বার আলো প্রবেশ করবে ‘ইনশাআল্লাহ। এভাবেই তিনি দূর্বার গতিতে তাঁর পিতার পবিত্র দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব কর্তৃক লিখিত কিতাবসমূহঃ
১. আল কুরআনুল কারীমের বঙ্গানুবাদ:
তিনি সুদীর্ঘ তিন বৎসর গবেষণা করে ২২ নভেম্বর ২০০৬ ইং সালে প্রতিটি সূরার ভূমিকাসহ “আল কুরআনুল কারীমের বঙ্গানুবাদ” উপহার দেন। প্রায় ১৫০০ বছরের ভিতর এটিই বিশ্বে প্রথম সূরার ভূমিকাসহ আল কুরআনুল কারীমের বঙ্গানুবাদ। যেখানে তিনি প্রতিটি সূরার সহীহ নাম দিয়েছেন এবং নামগুলোও বঙ্গানুবাদ করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য বাজারে প্রচলিত প্রায় সকল আল কুরআন শরীফেই সূরার নামে ভুল ছিল। তিনি বাংলাদেশে প্রথম সূরার নাম সহীহ করে লিখেছেন। এটি দেশ বরেণ্য আলিম সমাজ ও জ্ঞানী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।
২. তা‘লিমুল কুরআন:
২০০৭ সালে তিনি তা‘লিমুল কুরআন নামক একটি গ্রন্থ উপহার দিয়েছেন। যেখানে তিনি আল কুরআনুল কারীমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূরার আরবী সহ বাংলা অনুবাদ করে দিয়েছেন। যাতে পাঠক কোন আরবীর কি অর্থ তা একই পৃষ্ঠায় দেখে পড়তে পারে। এ কিতাব তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা লিখে দিয়েছেন। এটি প্রতিটি মুসলমানের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
৩. বিশ্ব তা‘লিমে যিকর (মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ):
তিনি প্রায় দুই বছর অক্লান্ত পরিশ্রম ও গবেষণা করে ২০০৮ সালে সূধী পাঠক মহলকে বিশ্ব তা‘লিমে যিকর নামক আরো একটি গবেষণামূলক কিতাব উপহার দেন। এ কিতাবে তিনি আল ক্বুরআনুল কারীম ও সুন্নাহর ভিত্তিতে বিশ্ব তা‘লিমে যিকর (মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ) এর সংবিধান রচনা করেন। এ কিতাবে তিনি আল ক্বুরআনুল কারীমের যিকর সংক্রান্ত সকল আয়াতের বঙ্গানুবাদ করে ব্যাখ্যা করেন। প্রায় ৪৭ টি সূরা থেকে তিনি যিকর সম্পর্কিত আয়াতগুলো লিপিবদ্ধ করেন। তারপর তিনি হাদীসে কুদসী ও সহীহ হাদীস শরীফের আলোকে যিকর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সবশেষে তিনি তাঁর পিতা থেকে অর্জিত চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীকার সবকসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। এটি ‘আলিম সমাজে ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ কিতাব বিশ্বে যিকরকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করবে
৪. আল্লাহ ভরসা:
২০০৯ সালে তিনি ‘আল্লাহ ভরসা’ নামক আরো একটি কিতাব রচনা করেন। এ কিতাবে তিনি সকল অবস্থাতেই আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করার তাগিদ দিয়েছেন। এতে তিনি আল ক্বুরআনুল কারীমের আলোকে আল্লাহর উপর ভরসা করা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
৫. সুস্থ থাকুন:
এটি তাঁর যুগশ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। একটি মানুষ কোন ওষুধ ছাড়া কিভাবে বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে সে বিষয়ে নতুন কিছু থিওরী আবিষ্কার করেছেন। এতে তিনি মানবদেহের প্রায় সকল রোগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। যারা সুস্থ দেহের আধীকারী হয়ে দীর্ঘ দিন যুবক থাকতে চান তাদের জন্য বইটি খুব উপকারী। এ কিতাবটির গবেষণা চলছে। উল্লেখ্য ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব একজন এমেচার চিকিৎসা বিজ্ঞানী।
৬. দৃষ্টি যখন বাংলাদেশে:
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতজন আল্লাহর অলী এসেছেন এবং ইসলাম প্রচার করেছেন তাঁদের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত গ্রন্থ এটি। এ কিতাবে তিনি বাংলাদেশের সকল দরবার শরীফের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এছাড়াও দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ ও যারা এদেশের জন্য বিশেষ অবদান রেখে গেছেন তাদের পরিচয় ও সন্নিবেশিত করেছেন। এটি পি.এইচ.ডি গবেষকদের জন্য একটি রেফারেন্স গ্রস্থ হিসেবে ব্যাপক অবদান রাখবে। এটির গবেষণা চলছে।
৭. ইসলামী নাম সম্ভার (নাম নীলিমা):
সমাজে প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় অর্থহীন বা বিকৃত অর্থের নামে মানুষের নাম রাখা হচ্ছে যা ক্বুরআন ও সুন্নাহর আলোকের অর্থের বহির্ভূত। অর্থহীন বা বিকৃত অর্থের নামে কারো নাম রাখা ধীরে ধীরে ঐ মানুষটির উপরও ঐ নামের নেতিবাচক প্রভাব পরে এটি আজ বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। এ প্রসঙ্গে বাংলায় একটি কথা আছে ‘নামে নামে যমে টানে’। অর্থাৎ বিকৃত অর্থের নামের ফলাফল বরাবরই ভাল নয়।
সুন্দর নাম রাখার তাগিদ দিয়ে হুযুর (সা:)বলেন, অর্থাৎ ‘‘ হযরত আবূ দারদা (রা.) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ (সা:)বলেছেন, ক্বিয়ামাতের দিন তোমাদের ও তোমাদের পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামীন আল ক্বুরআনুল কারীমের সূরা আল আ‘রাফ এর ১৮০ নং আয়াতে বলেন, অর্থাৎ: সুন্দর নামসমূহ আল্লাহরই , তাই সেই নাম সমূহ দ্বারাই আল্লাহকে ডাকো’’।আল্লাহ সুন্দর নামকে পছন্দ করেন তাই সুন্দর নামের মর্যাদা অত্যধিক।
এ কিতাবে আল্লাহ রাব্বুল আ‘লামীনের নিরানব্বইটি নাম, দয়াল নবীজী (সা:) এঁর ৫২টি নাম ও ৫০টি উপাধি, পূর্বেব নবীগণের নাম, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ৩১৩ জন মর্যাদাবান ছাহাবীর নাম, ৪২ জন মহিলা ছাহাবীর নাম, আল কুরআনুল কারীমের ১১৪টি সূরা থেকে সুন্দর অর্থবোধক নাম এবং আরবী বাংলা ও আধুনিক নাম সমূহ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। কিতাবটি থেকে সূধী পাঠক মহল খুব সহজে তাদের শিশুর নাম রাখতে পারবে এবং জানতে পারবে নামটি আল ক্বুরআনুল কারীমের কোন সূরার কোন আয়াতে রয়েছ।
৮. ঈমাম আবূ হানীফা(রাহ):ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর অবদান:
এটি তাঁর সুদীর্ঘ নয় বছরের গবেষণা। এ কিতাবে তিনি ইমাম আবূ হানীফা (রাহ.) এঁর জীবনী, ইমাম আবূ হানীফা (রাহ.) এঁর বংশ পরম্পরা, সরাসরি সাহাবায়ে কিরাম থেকে ‘ইলম অর্জন ও তাবি‘ঈ হওয়ার প্রমাণ, জ্ঞানার্জনের তৎপরতা, ইমাম আবূ হানীফা (রাহ.) এঁর প্রতি ‘ওস্তাদের বিশেষ ভালবাসা, তীক্ষ্ণ মেধা, প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা, বিশেষ কিছু গুনাবলী, প্রখ্যাত ওস্তাদগণের পরিচয়, গবেষণা ও ফিকহ শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন, কর্ম জীবন, অধ্যাপনা জীবন, ইমাম আবূ হানীফা (রাহ.) অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের যুগশ্রেষ্ঠ আল্লাহর অলী ছিলেন, ফিকহ হানাফী: উৎপত্তি ও বিকাশ, বিশ্বে হানাফী মাযহাবের বিস্তৃতি, ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম আবূ হানীফা (রাহ.) এঁর অবদান, তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা এবং বিশ্বে ফিকহ হানাফীর প্রভাব ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এটি তাঁর পি.এইচ.ডি গবেষণার থিসিস।
৯. Big Bang The False Theory:
বিগ্ ব্যাং থিওরীটি যদিও সর্বমহলে স্বীকৃত হয়েছে কিন্তু তিনি এ গ্রন্থে বিগ ব্যাং থিওরীকে আল ক্বুরআনুল কারীম, হাদীস শরীফ ও বিজ্ঞানের আলোকে ভুল প্রমাণ করেছেন। এ ছাড়া ও বিজ্ঞানে আরো কিছু থিওরীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। যা বিজ্ঞানী মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করবে। এটি গবেষণা চলছে।
১০. সবক:
বিশ্ব তা‘লিমে যিকর মানিকগঞ্জ দরবার শরীফে চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীক্বার ২১ টি সবক তা‘লিম দেয়া হয়। সে দূর্লভ সবক সমূহ থেকে এ কিতাবে সূধী পাঠক মহলকে দুটি সবক লিখে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে এ তরীক্বার নতুন সালিকদের কথা বিবেচনা করে এ কিতাবটি রচনা করা, যাতে তারা খুব সহজে সঠিক নিয়মে সবক আদায় করতে পারে।
১১. বিশ্ব তা‘লিমে যিকর পরিচিতি:
২০০৯ সালে বিশ্ব তা‘লিমে যিকর এর পরিচিতি, কার্যক্রম ও ভাবিষ্যৎ পরিকল্পনার কিছু দিক নিয়ে এ কিতাবটি রচনা করেন।
১২. বিশ্ব ইজতিমা কি এবং কেন:
২০১০ সালে এ কিতাবটি রচনা করেন। এতে তিনি বিশ্ব তালিমে যিকরের বিশ্ব ইজতিমা সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে মূল বিষয়টি নিয়ে গবেষণামূলক আলোচনা করেছেন।
১৩. জ্ঞানের স্পর্শমণি:
তিনি ২০১০ সালে ‘ইলম মা‘রিফাতের বিখ্যাত কিতাব আইনুল ইলম-র বঙ্গানুবাদ করেন। যা বাংলা ভাষাভাষি মানুষের ইলম মারিফাতের জ্ঞানের সন্জিবনী শক্তি বৃদ্ধি করছে।
১৪. নামায শিক্ষা:
আল্লাহ রাব্বুল ‘আরামীনের পক্ষ থেকে নামায মানুষের জন্য এক মহা নিয়ামত।নামাযে সৃষ্টি তার স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। একমাত্র নামাযের মাধ্যমেই ক্ষুদ্র মানুষ তার মহাস্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের মহাপবিত্র কুদরতী চরণস্পর্শ স্বীয় লালাটে লেপটে ধন্য হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। যখন কোন মানুষের দেহ বা শরীরের ত্রিশ কোটি কোটি কোষ,মন, হৃদয় এবং আত্মা অত্যধিক পবিত্রতা অর্জন করে এবং খুশূ‘খুযূ‘র সহিত নামায আদায় করে তখন সে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর লাভ করে। এ প্রসঙ্গে হুযুর (সা বলেছেন, ‘‘নামায মু‘মিনের নূর স্বরূপ, অন্য হাদীস শরীফে এসেছে, ‘‘নামায ক্বলবের নূর,যার ইচ্ছা সে যেন নামায দ্বারা তা আলোকিত করে’’। নামায দ্বারাই মানুষ শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক সকল প্রকার কল্যাণ লাভ করতে পরে এ কথা আজ বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত। তাই সকলের বেশী বেশী নামায আদায় করা প্রযোজন। এ গ্রন্হে আল ক্বুরআনুল কারীম ও হাদীস শরীফের আলোকে সহীহ শুদ্ধভাবে নামায আদায় করার বিস্তারিত বর্ণনা আলোচনা করা হলো।
১৫. হাক্বীক্বাত:
হাক্বীক্বাত অর্থে মূল সত্তা, স্বমহিমা, বিশুদ্ধ, প্রকৃত ও প্রমাণিত সত্য ইত্যাদি বিষয়কে বুঝায়। পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা তথা ইসলামের প্রতিটি বিষয়ের হাক্বীক্বাত রয়েছে। যে কোন বিষয়ের হাক্বীক্বাত অনুধাবন করার মাধ্যমে খুশূ‘খুযূ‘র সাথে সে বিধান পালন করা সম্ভব হয়। তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের হাক্বীক্বাত জানা প্রয়োজন।
এ কিতাবে শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রাহ)কর্তৃক লিখিত হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ কিতাবের আলোকে অযূ, নামায, রোযা, হজ্জ্ব ও যাকাতের হাক্বীক্বাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
১৬. মাইয়্যিত ও জানাজা:
মহান আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন মানুষ সৃষ্টি করে কিছু সময়ের জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন তাঁর ‘ ইবাদত করার জন্য । সেই সুনির্ধারিত কিছু সময় হলো হায়াত বা আয়ু । এ আয়ু শেষ হয়ে গেলে মানুষকে পুনরায় তার মহাস্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের নিকট ফিরে যেতে হয়। এ ফিরে যাওয়ার মাধ্যমকে ইনতিকাল, মৃত্যু বা মরন বলা হয়।মুসলমান মানুষ ইনতিকাল করলে তাকে মরহুম বা মরহুমা বলতে হয়।
প্রিয়জনের ইনতিকাল মানুষকে ভারাক্রান্ত করে এবং তার কল্যাণের জন্য কিছু করার প্রেরণা জাগ্রত করে এটিই স্বাভাবিক। তার কল্যাণের জন্য শরী‘আতসম্মতভাবে সকল কিছুই করা যাবে। নিজ সন্তান বা নিকট আত্মীয়রা দু‘আ, আল ক্বুরআনুল কারীম খতম, মিলদ ও হালকায়ে যিকর মাহফিল ইত্যাদি করা উত্তম।
এ কিতাবে আল ক্বুরআনুল কারীম ও হাদীস শরীফের আলোকে ইনতিকাল করার পরের সকল বিষয় যেমন গোসল করানো, কাফন পরানো , জানাযা,দাফন, কবর এবং যিয়ারত সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি সূধী পাঠক মহল মানব জীবনের সবশেষ এবং গুরুত্বপূণ সময়টুকু সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করে উপকৃত হবেন।
আবিষ্কার সমূহঃ
মহা ভাবনা প্রতিবিম্ব: (The Great Thought Reflects)
২০০৪ সালে ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব আবিষ্কার করেন মহাভাবনা প্রতিবিম্ব। যা তাঁর পিতার লিখিত ‘মহাভাবনা’ কিতাবের প্রথম অধ্যায়ের ব্যবহারিক উপস্থাপনা (Practical Presentation)।
মহাভাবনা প্রতিবিম্ব নাসা (NASA) ও বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে মহাভাবনায় উল্লেখিত গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ছায়পথ, নেবুলা, কোয়াসার, পালসার, ইত্যাদির দূর্লভ ছবি সংগ্রহ করে মহাকাশের অবস্থান অনুযায়ী কৃত্রিম মহাকাশ তৈরী করেছেন। এ আবিষ্কারের ফলে মহাস্রষ্টার তুলনায় মানুষ কতটুকু তা খুব সহজে অনুধাবন করা যায়। তাছাড়া গ্রহ নক্ষত্রের গতি ও অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা দিয়েছেন। যা মহাকাশ ও পদার্থ বিজ্ঞানের উচ্চতর গবেষণায় তথা এম.এসসি (বাই রিসার্চ) ও পি.এইচ.ডি গবেষকদের যথেষ্ঠ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য মহাভাবনা প্রতিবিম্ব বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্ল্যানেটোরিয়াম। এর আগে ১৮৮৮ সালে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রনমিক্যল এসোসিয়েশন ২ ফুট X ২ ফুট আকারের ক্ষুদ্র একটি প্ল্যানেটোরিয়াম তৈরী করেছিল। তারপর ২০০৪ সালের ৯ জুলাই মহাভাবনা প্রতিবিম্ব আবিষ্কার করা হয় যা ১৭ ফুট X ১১ ফুট আয়তনের বিশাল প্ল্যানেটোরিয়াম। তারপর সরকারী ভাবে ২০০৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের তৃতীয় প্ল্যানেটোরিয়াম ভাসানী নভোথিয়েটার প্রতিষ্ঠিত করা হয়। মহাভাবনা প্রতিবিম্ব আবিষ্কারে তাঁর রিসার্চ অ্যাসিসটেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন প্রকৌশলী মুহাম্মাদ রিয়াজুল হক ও মাওলানা মুহাম্মাদ মাহবুব আলম ।
মস্তিস্কের গতি ও গঠন:
ড.মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব ২০০৮ সালে প্রাকৃতিকভাবেই আবিষ্কার করেছেন মস্তিস্কের গতি সম্পর্কিত থিওরী। তাঁর মতে মানুষের মস্তিস্ক তরল পদার্থের মত কারন যখন মস্তিস্ক কাজ করে তখন মস্তিস্কে ভেইব্রেশন সৃষ্টি হয় তাই তরল বা খুব সফট না হলে কোন বস্তুতে ভাইব্রেশন হতে পারে না। কিন্তু যারা সাধারন ডাক্তারী পড়েছে তারা এ তথ্য দিতে পারেনি। তারা মস্তিস্ক নিয়ে কাজ করার সময় মস্তিস্ককে সলিড পেয়েছে। তারপর আমেরিকার মস্তিস্ক বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র থেকে জানা যায় মস্তিস্ক যখন মানুষের মাথার ভিতরে থাকে তখন তা তরল অবস্থায় থাকে এবং যখন কোন ভাবে বাতাসের সংস্পর্শে আছে বাতাসের উপাদানের সাথে রিএ্যাকশক করে এটি সলিড হয়ে যায়।
পৃথিবীর ওজন:
২০০৮ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি বিজ্ঞানীদের আবিস্কৃত পৃথিবীর ওজনকে ভুল প্রমান করে দিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর উপাদান, অবস্থান ও আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর ওজন বের করেছেন ৬ কোটি কোটি কোটি টন। কিন্তু ড. মুহাম্মাদ মনজুরুল ইসলাম ছিদ্দিকী ছাহিব প্রমাণ করেছেন পৃথিবীর ওজন আরো অনেক বেশী হবে। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর ভিতরে কোন বস্তুর ওজন যেভাবে নির্ণয় করা হয় পৃথিবীর ওজন সেভাবে বা সে ফর্মূলায় নির্ণয় করলে ফলাফল সঠিক হবে না। কারন, পৃথিবী মহশূন্যে ভসমান অবস্থায় রয়েছে। এটি ভাসমান থাকার প্রধান কারন হলো পৃথিবীকে সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্র প্রচন্ড বেগে আর্কষন করছে। চর্তুদিক থেকে প্রচন্ড আর্কষনে পৃথিবী মহাশূন্যে ভাসছে। এভাবে অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্র ও ভাসছে। কোন বস্তু যখন গতিশীল অবস্থায় থাকে তখন তার সঠিক ওজন পাওয়া যায় না, কারন কোন বস্তু গতিশীল অবস্থায় থাকলে তার ভিতরের বস্তুকনা ও পরমানুগুলো ও গতিশীল থাকে। ফলে পরমানুগুলো গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় তাই গতিশীল অবস্থার ওজন ও স্থিতিশীল অবস্থার ওজনের বিরাট পার্থক্য রয়েছে । পর্দাথের স্থির অবস্থার ওজনই তার প্রকৃত ওজন। আর তাই প্রচন্ড গতিশীল পৃথিবীর ওজন আর স্থির পৃথিবীর ওজনের পার্থক্য হবে বিরাট ব্যবধানে। অতএব পৃথিবীর ওজন ৬ কোটি কোটি কোটি টন এটি ঠিক নয় এর ওজন আরো অনেক বেশী। তাই পৃথিবীর ওজন কথা বিজ্ঞানীরা লিখলে লিখতে হবে মানুষের আপাত অনুমানে পৃথিবীর ওজন ৬ কোটি কোটি কোটি টন। তাই পৃথিবীর ওজন ৬ কোটি কোটি কোটি টন এটি ভুল।
অমূল্য বাণী
১। আল ক্বুআনুল কারীম তিলাওয়াত করার মত করলে আজও গাছ তিলাওয়াত শুনে, গরু তিলাওয়াত শুনে, পাখি তিলাওয়াত শুনে।
২। একজন জ্ঞানী মানুষের কাছে গিয়ে আপনিও জ্ঞানী হতে পারেন।
৩। আল ক্বুরআনের মিল বিজ্ঞানের সাথে নয় বিজ্ঞানের মিল আল ক্বুরআনের সাথে। রাসূলুল্লাহ (সা.) কে মানলে মহাবিজ্ঞান মানা হয়ে যায়।
৪। একটি মানুষ একটি হাসপাতাল, একটি মানুষ একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
৫। ভবিষ্যতে মানুষ বৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে।
৬। যেটার শক্তি বেশী সেটি সূক্ষ্মও বেশী।
৭। শরীরের তাপ অনুসারে পানি পান করতে হয়।
৮। নিজের বাড়ীতে কাজ না থাকলে প্রতিবেশীর বাড়ীতে যেয়ে কাজ করে দিবেন তবু অলস বসে থাকবেন না।
৯। ছেলে পেলে নষ্ট হয় পড়শীর জন্য।
১০। মানূষের বয়স বাড়ে না কমে।
১১। বাংলাদেশের মানুষ স্বর্ন, বাংলাদেশের মাটি স্বর্ন। বাংলাদেশ কখনই গরীর দেশ নয়।
১২। আমরা বাঙ্গালী ও বাংলাদেশী।
১৩। মানিকগঞ্জ দরবার শরীফ নির্দলীয় এবং সর্বদলীয়।
১৪। অনেক জানার নাম ‘ইলম নয়, মূল সত্যকে উদঘাটন করার নাম হলো আসল ‘ইলম।
১৫। এক কেজি ‘ইলম ঠিক রাখতে হলে দশ মণ হিলম দরকার।
১৬। হুযুর (সা.) কে ভালবাসার নাম হলো ঈমান।
১৭। প্রত্যেকটি জিনিসের মূল গভীরে পৌঁছানোর নাম হলো মা‘রিফাত।
১৮। যে নেতা সম্মান দিতে জানে না সে নেতা কোন এক দিন অসম্মানিত হবে।
১৯। পীরের দরবারে মানুষ আসে সভ্যতা, নম্রতা ও ভদ্রতা শেখার জন্য।
২০। মনের যে দু‘আ হয় এই দু‘আই আল্লাহপাকের কাছে কবুল হয়।
২১। যে নামাযে দাঁড়ালে চোখে পানি আসবে, আল্লাহর ধ্যান খেয়াল হবে তা হুজরী ক্বালবে নামায।
২২। মেডিটেশনের তিনটা স্তরের শেষ স্তর হলো আত্মা আর চিশতিয়া ছাবিরিয়া তরীকায় আমরা আত্মা থেকে শুরু করি।
২৩। আধ্যাত্মিক ব্যাপারগুলো অত্যন্ত অভিমানী।
২৪। আল্লাহপাক মহাশিল্পী মানুষ তাঁর শ্রেষ্ঠ শিল্প।
২৫। যিকর বেশি বেশি করলে অন্তরের চোখ খুলে যাবে।
২৬। যিকর করতে করতে ক্বলবে যিকর ধরে গেলে নিজেই বুঝবেন।
২৭। জীবনকে ভালবাসি মরনকে ভালবাসি। জীবনও আল্লাহর মরণও আল্লাহর।
২৮। যিকর করতে করতে একটি মানুষ কোটি কোটি পরমাণু মানুষ হয়ে বাতাসে ভেসে বেড়াবে এটি কোন ব্যাপারই না।
